ঈমান আনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ১/৩

ঈমান আনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে অনেকেই বলে যে, এই সব ধর্ম বা স্রষ্টায় বিশ্বাস এর কোন প্রয়োজন নেই। আমরা ভাল কাজ করলেই তো হয়। তারা নতুন এক ধর্মের কথা বলে যার নাম হল মানবধর্ম। মানবধর্ম কি? মানুষ হল সবকিছুর উপরে। Ethics এর এক ক্লাশে বিভিন্ন মনীষীর দেয়া Ethics এর সংজ্ঞা পড়ানো হচ্ছিল। এক মনীষীর মতে, মানুষের মূল্য হচ্ছে পরম। মানুষের উপকারে আসে এরকম সব কাজই হচ্ছে নৈতিক কাজ। খুবি চমৎকার। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এ ধরনের তত্ত্ব জেনেও কারো চরিত্রের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। Ethics এর ক্লাশ করে একজনের চরিত্র বদলে গেছে এরকম মানুষ আমি পাই নি। একেবারে গোড়াতে আমাদের মৌলিক কিছু সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত আমাদের চরিত্র বদলাবে না। একজন মানুষের জীবনের লক্ষ্য কি তার উপর নির্ভর করে তার নীতি কিভাবে নির্ধারিত হবে। কাজেই আমাদের জীবনের লক্ষ্যকে সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। জীবনের লক্ষ্যকে সঠিকভাবে নির্ধারণ করাটাই হল ঈমান আনা।

ঈমান মানে কি শুধু বিশ্বাস? আমার কাছে তা মনে হয় না। কারন শুধু বিশ্বাস করাটাই যদি ঈমান হয়, তাহলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই মুমিন। কিন্তু মুমিন হওয়া কি এত সহজ? একবার কিছু সাহাবী ইসলামে প্রবেশ করে নিজেদের মুমিন বলছিলেন। তখন তাদেরকে বলা হল যে, তোমরা নিজেদেরকে মুমিন বল না, বল যে তোমরা ইসলামে প্রবেশ করেছ। আরো কিছু উদাহরন দেখা যাক। ফিরআউন কি মুমিন? ফিরআউন কিন্তু আল্লাহকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করত। শয়তান কি মুমিন? কোন সাধারন মানুষের শয়তানের থেকে বেশি আল্লাহর উপর বিশ্বাস নেই। তারপরও শয়তান মুমিন না। তাহলে ঈমান আনা বলতে আসলে কি বুঝায়? এ ব্যাপারে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আমি নিজেও এখনও এ ব্যাপারে পুরোপুরি জ্ঞান অর্জন করতে পারি নি। এখানে আমি এ পর্যন্ত যা বুঝে এসেছি তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।

একজন মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন তার ভিতরে ভালবাসা, দয়া, উদারতা, সদয়ভাব, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি গুনাবলীগুলোর বীজ বপণ করা হয়ে থাকে। এ গুণগুলো প্রত্যেক মানুষের ভিতর সহজাত ভাবে থাকে। অর্থাৎ একটি শিশুর জন্ম নেওয়া মানে একটি গাছের চারা রোপিত হওয়া। এখন এই চারাটাকে বিকশিত করতে হবে। এই পৃথিবী হল সেই চারার বিকশিত হবার মাধ্যম। কোন মানুষ যত বেশি ভালবাসা, দয়া, উদারতা ইত্যাদি সদগুণগুলো অনুশীলন করবে তার সেই চারাটা তত বেশি বিকশিত হবে, সুস্থ-সবলভাবে বড় হবে। আর সে যদি তার উল্টোতা করে, অর্থাৎ অন্যায়, অত্যাচার করে তাহলে সে সেই চারাটাকে ধ্বংস করে। কুরআনে আল্লাহ বারবার বলছেন যে, তোমরা তোমাদের আত্মার জন্য ভাল কাজ পাঠাও। তিনি আরো বলছেন, তোমরা যদি অন্যায় কর, জুলুম কর তাহলে তোমরা আল্লাহ বা অন্য কারোর কোন ক্ষতি করবে না, বরং তোমরা তোমাদের নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আল্লাহ বলছেন, তোমরা তোমাদের আত্মার প্রতি জুলুম কর না, তোমাদের আত্মাকে ধ্বংস করো না। কুরআনে আল্লাহ খুব চমৎকার একটা রূপক ব্যবহার করেছেন। সেটি হল এরকম যে, তারা যখন কোন অন্যায়-অত্যাচার, খারাপ কাজ করে, তখন তাদের আত্মার অবস্থা হয় এরকম যেন একটি টর্নেডো এসে একটি শস্যক্ষেত্রকে লন্ডভন্ড করে গেল। আরেকটি চমৎকার রূপক আছে কুরআনে। উর্বর ভূমি থেকে বিভিন্ন ধরনের শস্য বের হয়ে আসে। কিন্তু অনূর্বর ভূমি থেকে তেমন কিছুই বের হয়ে আসে না। আমাদের আত্মার অবস্থা হবে অনেকটা এরকম। কাজেই আমাদের ভিতর চমৎকার সব গুণাবলীগুলোর সুপ্ত যে প্রতিভা আছে তাকে লালন করে বিকশিত করা হচ্ছে এই পৃথিবীর জীবনের উদ্দেশ্য।

Permission taken from brother Mahfuz http://share-thinking.blogspot.com/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: