একটি ভুল ধারণা ও তা সংশোধন (৩)

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/tasnima/

অনেকদিন ধরেই একটা ব্যাপার নিয়ে মনে সংশয় ছিল। আর তা হল কো ব্যক্তি মারা যাবার পরে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে অর্থ বা খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোন কিছুর বিনিময়ে যে কোরআন খতম করানোর নিয়ম আমাদের সমাজে চালু আছে আল্লাহর নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে। কারণ এ কথা আগেই শুনেছি যে অর্থের বিনিময়ে কোরআন খতম দেয়া ঠিক নয়। সুরা বাকারার তাফসীর পড়ার সময় এ ব্যাপারটা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করি। তাই ভাবলাম এ বিষয়টা ব্লগে শেয়ার করা দরকার। আমার মত অনেকেই হয়ত এ বিষয়টা নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন।

সুরা বাকারার ৪১নং আয়াতের বাংলা অর্থ: “আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবর্তীণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে।বস্তুত: তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার আযাব থেকে বাঁচ।”

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর আয়াতের অর্থ গ্রহণ নিষিদ্ধ হবার মানে হল মানুষের র্মজি ও র্স্বাথের তাগিদে আয়াতসমূহের র্মম বিকৃত বা ভুলভাবে প্রকাশ করে কিংবা তা গোপন রেখে টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ গ্রহণ করা। এ কাজটি উম্মতের জন্য র্সবসম্মতিক্রমে হারাম।

কোরআন শিখিয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েজ :এ বিষয়টি উল্লেখিত আয়াতের সাথে সর্ম্পকিত নয়।এ বিষয়টি নিয়ে ফেকাহ্শাস্ত্রবিদগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।ইমাম মালেক, শাফেয়ী এবং আহমদ ইবনে হাম্বল জায়েজ বলে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা (রা: ) প্রমুখ কয়েকজন ইমাম তা নিষেধ করেছেন। কেননা রসুলে করীম (সা.) কোরআনকে জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে পরিণত করতে বারণ করেছেন।

তবে পরর্বতী হানাফী ইমামগণ বিশেষভাবে র্পযবেক্ষণ করে দেখলেন যে, র্পূবে কোরআনের শিক্ষকমন্ডলীর ব্যয়ভার ইসলামী বায়তুরশাল (ইসলামী ধনভান্ডার ) বহন করত, কিন্তু র্বতমানে ইসলামী শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিততে এ শিক্ষকমন্ডলী কিছুই লাভ করেন না। ফলে যদি তাঁরা জীবিকার অন্বেষণে চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অনুরূপ পেশায় জড়িয়ে পড়েন,তবে ছেলে-মেয়েদের কোরআন শিক্ষার ধারা সর্ম্পূণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে।এজন্য কোরআন শিক্ষার বিনিময়ে প্রয়োজনানুপাতে পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে ইমামতি, আযান, হাদীস ও ফেকাহ শিক্ষাদান প্রভৃতি যেসব কাজের উপর শরীয়তের স্থায়িত্ব ও অস্তিত্ব নির্ভর করে সেগুলোকেও কোরআন শিক্ষাদাএনর সাথে সংযুক্ত করে প্রয়োজনমত এগুলোর বিনিময়েও পারিশ্রমিক গ্রহণ করারা অনুমতি দেয়া হয়েছে।(দুররে- মুখতার, শামী)

ঈসালে-সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরান খতম করানো : আল্লামা শামী ‘দুররেমুখতারের শরাহ’ এবং ‘শিফাউল আলীল’ নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে ও অকাট্য দলিলাদিসহ একথা প্রমাণ করেছেন যে, কোরান শিক্ষাদান বা অনুরূপ অন্যান্য কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের যে অনুমতি পরর্বতীকালের ফকীহগণ দিয়েছেন, তার কারণ এমন এক র্ধমীয় প্রয়োজন যে ,তাতে বিচ্যুতি দেখা দিলে গোটা শরীয়তের বিধানব্যবস্থার মূলে আঘাত আসবে। সুতরাং এ অনুমতি এ সব বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা একান্ত আবশ্যক।এজন্য পারিশ্রমিকের বদলে মৃতদের ঈসালে-সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরান খতম করানো বা অন্য কোন দোয়া-অযিফা পড়ানো হারাম।কারণ,এর উপর কোন র্ধমীয় মৌলিক প্রয়োজন র্নিভরশীল নয়।এখন যেহেতু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরান পড়া হারাম,সুতরাং যে পড়বে ও যে পড়াবে উভয়েই গোনাহগার হবে। বস্তুত: যে পড়ছে সে-ই যখন কোন সোয়াব পাচ্ছে না, তখন মৃত আত্মার প্রতি সে কি পৌছাবে? কবরের পাশে কোরান পড়ানো বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরআন খতম করানোর রীতি সাহাবী, তাবেয়ীন এবং প্রথম যুগের উম্মতগণের দ্বারা কোথাও র্বণিত বা প্রমাণিত নেই। সুতরাং এগুলৌ নি:সন্দেহে বেদআ’ত।
আমরা সকলে যেন তথাকথিত নিয়মের বদলে আল্লাহর দেখানো উপায়ে মৃত নিকটাত্মীয়ের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করতে পারি, আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তৌফিক দিন। আমিন।

Now I would like to end it here by adding  the comment from Brother yusuf on belahf of this topic.

ইঊসুফ বলেছেন ২০০৯/০৬/১২ ২৩:৩৩:৪৭

ঈসালে সওয়াবের অনেকগুলো পদ্ধতির একটি হলো, কুরআন পড়া-খতম করা। উত্তম হলো নিজেরা খতম করা, কারণ এতে ইখলাস, নিঃসার্থ দোয়া বেশি থাকে। কোনো দিবস-তারিখ ঠিক না করা -এটাও মনে রাখা উচিৎ।

অনেকজন মৌলভী ডেকে অনেকগুলো খতম করার চেয়ে নিজেরা একটা খতম করলে সওয়াব বেশি হবে। আল্লাহর কাছে ‘কোয়ানটিটি’ বড় নয়, ‘কোয়ালিটি’ বড়।

তবে নিজে একান্ত না-ই পারলে মৌলভী ডাকিয়েও খতম করানো যেতে পারে। তবে এটাতে কোনো প্রকার পূর্ব নির্ধারিত টাকা-পয়সা দেয়া যাবে না, কারণ তা পারিশ্রমিক বলে গণ্য হবে। তবে এমনিতে কোনো প্রকার পূর্ব নির্ধারণ বা বাধ্য-বাধকতা ছাড়া খুশি মনে কিছু দিলে তা ‘হাদিয়া’ বলে গণ্য হবে, জায়েযও হবে ইনশা’আল্লাহ।

আমাদের দেশে যেটা হয়, তা হলো, এটা একটা রুসম-রেওয়াজে পরিণত হয়। বছরের বিশেষ কোনো দিনে এরকম হুযুর ডেকে খতম পড়ানো হয়, আশ পাশের লোকদের ডেকে তবারক বিলানো হয়।

আসলে উচিৎ হলো নিজেরা খতম করা। তা না পারলে অন্য কাউকে দিয়ে খতম করালে সেটাকে কোনো রুসম-রেওয়াজে পরিণত না করা। কাউকে দিয়ে পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কুরআন না পড়ানো। (পারিশ্রমিক সেটাই যা পূর্ব নির্ধারিত হয়।) মূলত, কুরআন তেলাওয়াতের কোনো মূল্যায়ন হতে পারে না, তাই এ রকম পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা মূলত এর অবমূল্যায়ন করারই শামিল।

তাই হাদিয়া দেয়ার সময়ও এই খেয়াল করবে না যে, তাকে কুরআন পড়ার জন্য হাদিয়া দিচ্ছে। বরং, সে যে তার কিছু সময় আমার জন্য ব্যয় করল, এর প্রতিদান স্বরূপ কিছু উপহার দিচ্ছি। তাহলে ইনশা’আল্লাহ তা জায়েয হবে।

আসলে ইসলামের অনেক বিধানই কেবল নিয়তের কারণে তারতম্য হয়। তাই সবার আগে সবকিছুতে নিয়ত ও ইচ্ছাটাকে পরিশুদ্ধ করা উচিৎ। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: