আল-কুরআনের গুরুত্বঃ পর্ব-৩

Permission taken from Source :  http://prothom-aloblog.com/users/base/muslima/ মুসলিমা আপু

কুরআন মানুষের জন্য পথ নির্দেশ, এটি মানুষের চোখ খুলে দেয়। যারা কুরআনকে বুঝে পথ চলবে তারা পথ হারাবে না। কুরআন আল্লাহর একত্ববাদ শিক্ষা দেয়। মানুষের মন সবসময় তার স্রষ্টাকে জানতে চায়। কুরআন মানুষকে সেই স্রষ্টা, তাঁর নির্দেশাবলী ও তাঁর গুনাবলী সম্পর্কে জানায়। কুরআনের এই শিক্ষা থেকে মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় নুয়ে পড়ে ও আরো বেশি করে আল্লাহকে ভালোবাসতে শুরু করে। আল্লাহ যদি তাঁর সম্পর্কে না জানাতেন তবে মানুষের পক্ষে আন্দাজ অনুমান করে কখনই আল্লাহর পরিচয় পাওয়া সম্ভব হতো না। তাই কেউ যখন কুরআন পড়ে তখন তার বুঝা উচিত সে তার স্রষ্টা ও প্রতিপালক সম্পর্কে পড়ছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর এক সাহাবীকে প্রশ্ন করেছিলেন,‘তুমি কি জানো কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে সেরা?’ সাহাবী সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন- সেই আয়াতটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারা, ২:২৫৫)।

“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, অনন্ত-অসীম। তন্দ্রা অথবা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সমস্তই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? [তার সৃষ্ট প্রাণীর] তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ব করতে পারে না। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ব্যাপী তাঁর সিংহাসন পরিব্যাপ্ত; ইহাদের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। নিশ্চয়ই তিনি মহান ও [গৌরবে] সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সূরা বাকারা, ২:২৫৫)

কুরআনের সেরা আয়াতটি পুরোটাই আল্লাহর মহত্ত্বের বর্ণনা। এ থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে আল্লাহ তাআলার নিজের স্বরূপ সম্পর্কে জানানোই কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সূরা-ইখলাসকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে, এই সূরাও আল্লাহর বর্ণনা। এই বর্ণনাগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি ইবাদত শুধু আল্লাহরই জন্য। তাই এখন থেকে আমরা আল্লাহর গুণবাচক আয়াত পড়ার সময় স্মরণ রাখব যে এগুলো বুঝা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কুরআন আমাদেরকে সঠিক পথ দেখায়। আল্লাহর নাম, গুণাবলী জানার পর যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উপায় জানা। আমরা প্রতি নামাযের প্রতি রাকাতে আল্লাহর কাছে একটা মূল্যবান বস্তু চাই: “আমাদের সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।” (সূরা ফাতিহা, ১:৫-৭)। আল্লাহ আমাদের এ ডাকে সাড়া দিয়ে সূরা বাকারার শুরুতেই বলেছেন, “এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই, পথ প্রদর্শনকারী মুত্তাকীদের জন্য।” (সূরা বাকারা ২:২) এভাবে কুরআন পড়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারব কিভাবে কোন পথে গেলে আল্লাহ আমাদের উপর খুশি হবেন। আল্লাহকে খুশি করতে পারলেই দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারি।
(চলবে)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: