আল-কুরআনের গুরুত্বঃ পর্ব-১

Permission taken from Source :  http://prothom-aloblog.com/users/base/muslima/ মুসলিমা আপু

কুরআনের গুরুত্ব সমন্ধে এই সিরিজে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। বিশ্বের সর্বশ্রষ্ঠ ধর্ম গ্রন্থ পবিত্র আল-কুরআন।মুসলমানদের জন্য এই কুরআন হচ্ছে ইহকাল ও পরকালের জন্য আল্লাহর মনোনীত সংবিধান। এই সংবিধানে বর্নিত বিধি-বিধান প্রত্যেক মুসলমানকে নিঃশর্তভাবে মেনে চলা আবশ্যক। অথচ আফসোসের বিষয় হল, আমরা অনেকেই এই কুরআন পড়ার পিছনে খুব অল্প সময়ই ব্যয় করি। আসুন না আমরা আমাদের অতি ব্যস্ততম জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে নিয়ে, প্রতিদিন এক পাতা হলেও কুরআন পড়ি ও তার অর্থ আত্বস্থ করার চেষ্টা করি।

প্রথমেই জানা যাক আমরা কুরআন কেন পড়বো?

“আলিফ লাম রা; এতি একটি গ্রন্থ। যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি- যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন- পরাক্রান্ত প্রশংসার যোগ্য সত্তার পথের দিকে।” (সুরা ইব্রাহীম, ১৪ঃ১)

কুরআনের এই আয়াত পড়ে ইসলামের কোন সমালোচক প্রশ্ন করতে পারেন কুরআনের এই কথাগুলো কি সত্য? কিন্তু মুসলিমদের বাস্তব অবস্থার সাথে এই কথার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। মুসলিমরা অন্ধকারেই বসবাস করছে। অবশ্যই আল্লাহর বাণী সত্য, এতে কোন সন্দেহ নাই। কেউ যদি কুরআনের ইতিহাস অধ্যয়ন করে এবং পুর্ববর্তিদের উপর কুরআনের প্রভাব লক্ষ্য করে তবে দেখবে কুরআনের এই বাণী সত্যে পরিণত হয়েছিলো। এটা সত্যিই দুঃখজনক যে আজকের মুসলিমরা এই অসাধারণ গ্রন্থের অধিকারী হয়েও এ থেকে হেদায়েতের নূর পাচ্ছে না। এর কারন খুঁজতে গেলে দেখা যায় কুরআনকে মুল্যায়ন ও বুঝতে না পারার মধ্যেই সমস্যা নিহিত।

কুরআন এই পৃথিবী ও আখেরাতে মুমিনের জন্য সম্মান বয়ে আনে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,
“আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবতীর্ন করেছি; এতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে। তোমরা কি বোঝ না?” ( সুরা আম্বিয়া, ২১ঃ১০)
এই আয়াতটি আরবের কুরাইশদের উপর নাজিল হয়েছিল। কুরআন নাজিলের আগে কেউ তাদের সম্মান দিত না। কিন্তু কুরআনের কারনেই তাদের সম্মান বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুলনীতি এখনও অপরিবর্তিত যেমনটি রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “ আল্লাহ্‌ তাঁর এই কিতাব দ্বারা কিছু লোককে উপরে উঠান আর কিছু লোককে নামিয়ে দেন নীচে।” (মুসলিম)

কোন মুমিন যদি সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায় এবং অন্যের চোখে নিচু হতে না চায় তবে আল্লাহ্‌ জানিয়ে দিয়েছেন তাদের কি করতে হবে, কুরআনের কাছে ফিরতে হবে এবং এর শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতো গেল দুনিয়ার সম্মান। আখেরাতেও কুরআন মুমিনদের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। আবি উমামা (রাঃ) বর্ননা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, “তোমরা কুরআন পাঠ করো। কিয়ামতের দিন কুরআন তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে উপস্থিত হবে।” (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ সকল কথার উপর আল্লাহ্‌ বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক সেরকম, যেমন সকল সৃষ্টির উপর আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্ব।”(তিরমিযি)
কোন ব্যক্তি যখন এই কুরআনের প্রকৃত মর্যাদা বুঝতে পারবে তখন সে অবশ্যই কিছু সময় এর অধ্যয়নে ব্যয় করবে। কুরআনের প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা অক্ষর আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে যিনি জানেন যা কিছু গোপন ও প্রকাশ্য, যিনি সবচেয়ে জ্ঞানী, যিনি প্রবল পরাক্রমশালী ও সবকিছুর মালিক। কুরআন তাই জ্ঞানের উৎস হিসাবে অনন্য, এতে কোন ভুল নেই এবং মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সবই এতে বিদ্যমান। একজন মুমিনের কি কুরআন না পড়ে হাত পা গুটিয়ে রাখা মানায়?

চলবে…….

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: