উৎসব নয়, প্রার্থনার রাত ‘শবেবরাত’

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/myousufs মুল লেখা থেকে কিছুটা সংক্ষিপ্তকারে

ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত। আর বরাত অর্থ ‘মুক্তি’। শবেবরাত অর্থ মুক্তির রাত। যে রাতে আল্লাহতায়ালা জঘন্য থেকে জঘন্যতম পাপীকেও মুক্তি দিয়ে দেন অনায়াসে। একটু অন্যভাবে আমরা বলতে পারি,শবেবরাত হলো রমজানের আগে আল্লাহ প্রদত্ত মুক্তির সুযোগ। যে সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একজন মুসলমান রমজানের আগেই পাপমুক্ত হয়ে নিজেকে পবিত্র করে নিতে পারেন। এরপর নিষ্পাপ হৃদয়ে রমজান মাসে ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারেন।

আমাদের দেশে দু’রকম লোক আছে। একদল শবেবরাত বলে কোনো কিছু মানতে নারাজ। আরেক দল শবেবরাতকে শবে কদরের স্থানে, বরং তার চেয়েও বেশি মর্যাদায় সমাসীন করতে ব্যস্ত। অথচ দুটিই বাড়াবাড়ি। আর ইসলাম বাড়াবাড়িকে কখনও সমর্থন করে না; সবক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে পছন্দ করে ইসলাম।

শবেবরাতের ফজিলত নিয়ে প্রায় ১০ জন সাহাবি নবীজির (সাঃ) হাদিস বর্ণনা করেন। পরবর্তী সময়ে সাহাবি, তাবেঈ ও বড় বড় ইমামের যুগেও শবেবরাতের মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। অতএব শবেবরাতকে অস্বীকার করার কোনো পথ নেই।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত,রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, যখন শাবানের পঞ্চদশ রজনী (শবেবরাত) তোমাদের সম্মুখে আগমন করবে,তখন তোমরা ওই রজনীতে নামাজ পড় এবং পরবর্তী দিন রোজা রেখ। কেননা সেদিনের সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং (বান্দাদের ডেকে) বলতে থাকেন, ‘আছ কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী, যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? আছ কি কেউ রিজিক অন্বেষণকারী,যাকে আমি রিজিকের ব্যবস্থা করে দেব? আছ কি কোনো রোগক্লিষ্ট ব্যক্তি,যাকে আমি সুস্থতা দান করব? এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতেই থাকেন। আছ কি কেউ কোনো বস্তুর প্রার্থী? আমি যার সব মনস্কামনা পূর্ণ করে দেব?’ –[ইবনে মাজাহ : ১৩৮৪]

এছাড়া হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,আয়েশা! তুমি কি জান যে এ রাতে (শবেবরাতে) কী কী ঘটে? তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাতে কী কী ঘটে? এরপর রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন,এতে এ বছর মানুষের মধ্যে কারা জন্মগ্রহণ করবে এবং কারা মৃত্যুবরণ করবে তা নির্ধারিত হয়। এতে মানুষের কার্যগুলো গ্রহণ করা হয় এবং তাদের রিজিকগুলো অবতীর্ণ হয়। এরপর আয়েশা (রা.) রাসূলকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন,হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি কি আল্লাহর রহমত ছাড়া (কেবল নিজ আমল দ্বারা) বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না?

রাসূল (সাঃ) তিনবার বললেন, না। কোনো ব্যক্তিই আল্লাহতায়ালার রহমত ছাড়া বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন,আমি তখন রাসূলকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম, আপনিও না? তিনি স্বীয় মাথার ওপর হাত রেখে বললেন, আমিও না। তবে যদি আল্লাহ আমার ওপর রহম করেন। তাহলে ভিন্ন কথা। একথাও তিনি তিনবার বললেন। [মিশকাত : ১১৫]

এ রকম আরও একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, এ রাতে আল্লাহতায়ালা অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করেন। মানুষের রিজিকের ও জীবন-মৃত্যুর ফয়সালা করেন। কাজেই একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনা করে এ রাতে খুব কান্নাকাটি করা উচিত।

তবে এজন্য মসজিদ সাজিয়ে লোকজন একত্র হয়ে এক সঙ্গে সারা রাত ইবাদত করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং মসজিদে শুধু ফরজ ও সুন্নত আদায় করে যার যার ঘরে নফল ইবাদত করা যেতে পারে; বরং, উত্তম তো সেটাই।মনে রাখতে হবে, শবেবরাতের আলাদা কোনো আমল নেই। অন্যান্য দিনের মতোই এর ইবাদত। একেক রাকাতে একেক সূরা নির্ধারিত সংখ্যায় পড়ার সমাজে যে প্রচলন রয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আবার কোথাও কোথাও জামাতে নফল নামাজ বা সালাতুত তাসবিহ পড়ার যে রেওয়াজ রয়েছে তারও কোনো ভিত্তি নেই।

দু’রাকাত দু’রাকাত নফল নামাজ, তাসবিহ, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, সালাতুত তাসবিহ, সম্ভব হলে দিনি মাস’আলা-মাসায়েল আলোচনা,ধর্মীয় বইপত্র অধ্যয়ন এবং নবীজির (সাঃ) শানে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া -এসবই শবেবরাতের আমল।

সম্ভব হলে পুরুষের জন্য কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করা,কবরবাসীদের জন্য দোয়া করাও সওয়াবের কাজ। ঘুম এসে যাবে কিংবা চিৎকার-চেঁচামেচি হবে এ ভয়ে মসজিদে সম্মিলিতভাবে নফল নামাজ পড়া অনুত্তম। ঘরে একাকী যতক্ষণ ভালো লাগে ইবাদত করা উচিত। এরপর প্রয়োজনে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। নবীজি সাঃ এমনই করেছেন। মনে রাখতে হবে আল্লাহর কাছে কোয়ান্টিটি নয়, কোয়ালিটি বড়। অতএব হুড়াহুড়ি করে উঠবস করে ১০০ রাকাত পড়ার চেয়ে আগ্রহের সঙ্গে একনিষ্ঠভাবে দীর্ঘ রুকু-সিজদা করে দু’রাকাত পড়া অনেক ভালো। আর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই নিজের জন্য, নিজের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সব মুসলিম জাতির জন্য বেশি বেশি দোয়া করবে, তাওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করবে।

হাদিসে কয়েক ধরনের লোকের কথা এসেছে। যারা এ রাতেও আল্লাহর করুণা ও দয়া থেকে বঞ্চিত। তাদের মধ্যে হিংসুক, মুশরিক, অন্যায়ভাবে হত্যাকারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, মদ্যপায়ী, জাদুকর, চাঁদাবাজ, ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণী, সুদখোর ও অত্যাচারী সৈনিক অন্তর্ভুক্ত। অতএব, তাদের বেশি করে এ রাতে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে এসব পাপ আবার না করার দৃঢ়সংকল্প করা উচিত।

অনেকে শবেবরাতের পর দিন অর্থাৎ ১৫ শাবান রোজা রাখেন। এটি কেবল একটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, তাও দুর্বল। অতএব, তা শবেবরাতের উসিলায় নয়; বরং এমনিতে আরবি মাসের ১৫ তারিখ আইয়্যামে বীয উপলক্ষে রাখা যেতে পারে।

সবশেষে কথা হলো, পাপমুক্ত হয়ে রমজান মাসকে স্বাগত জানানোই এ রাতের তাৎপর্য। অতএব এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে সারারাত ইবাদত ও প্রার্থনায় কাটাতে পারলে তা-ই হবে এ রাতের সঠিক মূল্যায়ন। আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি আর আতশবাজির মেলা এ রাতের পবিত্রতায় আঘাত হানে। কারণ উৎসব নয়, কেবল প্রার্থনার রাত ‘শবেবরাত’।

এখানে শবে বরাতের (পনের শাবানের রাত) ফযীলত ও করণীয় বিষয়ক কিছু হাদীস যথাযথ উদ্ধৃতি ও সনদের নির্ভরযোগ্যতার বিবরণ সহ উল্লেখ করা হল।

১ম হাদীসঃ

মুআয ইবনে জাবাল (() বলেন, নবী করীম (() ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাতের দ্বারা ব্যপকভাবে উন্মুক্ত হয়। কিন্তু শিরকি কাজ-কর্মে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের ব্যাপারে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী মানুষ এই ব্যপক রহমত ও সাধারণ ক্ষমা থেকেও বঞ্চিত থাকে। যখন কোন বিশেষ সময়ের ব্যাপারে আল্লাহ তাঞ্চআলার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাত ঘোষণা হয়, তখন তার অর্থ এই হয় যে, এই সময় এমন সব নেক আমলের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও মাগফেরাতের উপযুক্ত হওয়া যায় এবং ঐ সব গুণাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। এ কারণে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফেরাত থেকে বঞ্চিত হয়।

যেহেতু উপরোক্ত হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসে অর্ধ-শাবানের রাতে ব্যাপক মাগফেরাতের গোষণা এসেছে, তাই এ রাতটি অনেক পূর্ব থেকেই শবে বরাত তথা মুক্তির রজনী নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। কেননা, এ রাতে গুনাহসমূহ থেকে মুক্তি লাভ হয় এবং পাপের অশুভ পরিণাম থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

যদি শবে বরাতের ফযীলতের ব্যাপারে দ্বিতীয় কোন হাদীস না থাকত, তবে এই হাদীসটিই এ রাতের ফযীলত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এবং এ রাতে মাগফেরাতের উপযোগী নেক আমলের গুরুত্ব প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হত। অথচ হাদীসের কিতাবসমূহে নির্ভরযোগ্য সনদে এ বিষয়ক আরো একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

এই রাতের আমল

উল্লেখিত হাদীস শরীফে এ রাতের কী কী আমলের নির্দেশনা-ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। নিম্নে এ বিষয়ে আরেকটি হাদীস পেশ করছি।

হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ক্ষ) রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, জ্ঞহে আয়েশাঞ্চ অথবা বলেছেন, জ্ঞও হুমাইরা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন?ঞ্চ আমি উত্তরে বললাম, জ্ঞনা, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা।ঞ্চ নবীজী জিঞ্চেস করলেন, জ্ঞতুমি কি জান এটা কোন রাত?ঞ্চ আমি বললাম, জ্ঞআল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন।ঞ্চ রাসূলুল্লাহ (ক্ষ) তখন ইরশাদ করলেন,

‘এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।‘ [শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৬৮]

ইমাম বাইহাকী (রহঃ) এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন,

এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, এ রাতে দীর্ঘ নফল পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে মনে রাখতে হবে যে, অনেক অনির্ভরযোগ্য ওয়ীফার বই-পুস্তকে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকআত হতে হবে, প্রতি রাকআতে এই সূরা এতবার পড়তে হবে – এগুলো ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এসব নেই। এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। সঠিক পদ্ধতি হল, নফল নামাযের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকআত করে যত রাকআত সম্ভব হয় পড়তে থাকা। কুরআন কারীম তেলওয়াত করা। দরূদ শরীফ পড়া। ইস্‌তেগফার করা। দুআ করা এবং কিছুটা ঘুমের প্রয়োজন হলে ঘুমানো। এমন যেন না হয় যে, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না।

পরদিন রোযা রাখা

সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে ঃ

হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (() থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (() বলেছেন, জ্ঞপনের শাবানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোযা রাখ। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিযিক প্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব। এভাবে সুব্‌হে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাঞ্চআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন।ঞ্চ [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩৮৪]

এই বর্ণনাটির সনদ যয়ীফ। কিন্তু মহাদ্দিসীন কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল, ফাযায়েলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোযা রাখার কথা সহীহ হাদীসে এসেছে এবং আইয়ামে বীয অর্থাৎ প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার বিষয়টিও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

তবে হ্যাঁ, শাবানের গোটা মাসে রোযা রাখার কথা বহু হাদীসে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ১ শাবান থেকে ২৭ শাবান পর্যন্ত রোযা রাখার যথেষ্ট ফযীলত রয়েছে। কিন্তু ২৮ ও ২৯ তারিখে রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ (() নিজেই বারণ করেছেন। ইরশাদ করেন, জ্ঞরমযানের দুঞ্চএকদিন পূর্বে রোযা রেখো না।ঞ্চ যাতে রমযানের পূর্ণ স্বস্তির সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনের রোযাই অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।

এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত

এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে যে, এ রাতের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকীভাবে করণীয়। ফরয নামাযতো অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোন প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই আর সাহাবায়ে কেরামরে যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। [ইক্‌তিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ ২১৯]

অবে কোন আহবান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলের ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: