দোয়া এবং উসিলা.. কিছু ভ্রান্ত ধারণার অবসান

Permission taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/sadi/149

প্রারম্ভিকা : এই প্রবন্ধের মধ্যে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে । দোয়া, ইসতিআনত ও উসিলা তথা তাওয়াস্‌সুল । উপরে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের সম্পূর্ণ পরিচয় ব্যাখ্যা সহকারে নিম্নে উপস্থাপন করা গেল।
১। দোয়া, অর্থ ডাকা বা প্রার্থনা করা।
২। ইসতিআনত, অর্থ সাহায্যের প্রার্থনা করা।
৩। উসিলা বা তাওয়াসসুল অর্থ মধ্যস্ততা। পরিভাষায় দোয়ার মধ্যে কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করাকে তাওয়াস্‌সুল বলা হয়। যদিও ইসতিআনত এবং উসিলা দোয়ার মধ্যে অর্ন্তর্ভুক্ত রয়েছে; কিন্তু ভিন্ন কিছু অর্থের আশঙ্কা থাকার কারণে এই দুইটি শব্দ দ্বারা দোয়া করা কখনো কখনো শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম এবং নাযায়েজ হয়ে যায়। কিন্তু দোয়ার মধ্যে এই রকম কোন আশঙ্কা নেই, সুতরাং ইসতিয়ানত এবং তাওয়াস্‌সুল না করে সরাসরি দোয়া করাটাই উত্তম।

দোয়ার উত্তম তরিকা:
উপরে উল্লেখিত বর্ণনা থেকে বুঝা গেল যে সরাসরি দোআ করাই দোয়ার উত্তম তরিকা, যার মধ্যে বান্দা সরাসরি নিজ প্রয়োজন আল্লাহর শাহী দরবারে পেশ করবে। এ প্রসংগে বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা হাফেজ ইবনে কাসির (রঃ) তাঁর বিশাল তাফসীরে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে-

“একজন গ্রাম্য লোক রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন যে আমাদের প্রভূ কি নিকটে? তাহলে আমরা তাঁকে চুপে চুপে ডাকবো, নাকি তিনি আমাদের থেকে দূরে? তবে তাকে আমরা উচ্চৈঃস্বরে ডাকবো।
রাসুল (সঃ) কোন উত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

“আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে,
তুমি বলে দাও- বস্তুত আমি রয়েছি তার নিকটেই। যারা প্রার্থনা করে আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করি। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত- কর্তব্য।”
(সুরা বাকারা : ১৮৬)
– বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসির, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১৯
এই হাদিস থেকে কয়েকটি কথা বুঝা যায়- আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দার অতি নিকটেই রয়েছেন।
প্রথমতঃ এই হাদিসের মধ্যে বান্দাহকে দোয়ার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
দ্বিতীয়তঃ যখনই কোন বান্দা আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।
তৃতীয়তঃ প্রকাশ্যে এবং গোপনে যখন যে কোন অবস্থায় বান্দা যা দোয়া করে তা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। তবে উত্তম তরিকা হল নীরবে নিভৃতে একাকী দোয়া করা।

চতুর্থতঃ দোয়ার মধ্যে উসিলা বা মধ্যস্ততা ধরার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহর দরবার সর্বস্তরের মানুষের জন্য সদা উন্মুক্ত। যে কোন সময় ডাকলে তিনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন। একজন অপরাধী যদি তার কাছে দোয়া করে, তিনি তার দোয়া সেভাবে কবুল করেন, যেমন একজন সৎ লোকের দোয়া তিনি কবুল করেন। সবাই তাঁর নিকট মুখাপেক্ষী; কিন্তু তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। দোয়া করার আসল নিয়ম হচ্ছে সরাসরি দোয়া করা, কাউকে দোয়ার মধ্যে মধ্যস্ততাকারী না করা। এটাই রাসুল (সঃ),সাহাবি, তাবেঈন ও তবয়ে তাবেঈনদের তরিকা।

নেক আমলের উসিলায় দোআ করা :
ঈমান এবং নেক আমলের উসিলায় দোয়া করা সমস্ত- আলেমদের নিকট যায়েজ আছে। সুতরাং যদি বলা হয়, হে আল্লাহ! আপনি আমার ঐ নেক আমল এর উসিলায় আমার দোআ কবুল করুন, তবে তা যায়েজ ।
হাদীসের মধ্যে এরকম নেক আমলের উসিলায় দোআ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। বোখারী শরীফের একটি হাদীস থেকে বুঝা যায় যে তিন জন মুসিবতগ্রস্থ ব্যক্তিকে তাদের নেক আমলের উসিলায় দোআর বদৌলতে আল্লাহ তা’আলা তাদের থেকে মুসিবত দূর করে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করার পর যেভাবে (ব্যাখ্যা দ্বারা ) দোআ করেছেন তা হচ্ছে-
যদি আপনি জানেন যে, আমি এই কাজ নিশ্চয়ই আপনার ভয়ে করেছি, তাহলে আপনি আমাদেরকে এই মুসিবত থেকে মুক্তি দিন। তখন আল্লাহর নির্দেশে তাদের জন্য গর্তের মুখ খুলে যায় এবং তারা বের হয়ে পড়েন। (বোখারী শরীফ : ১/৪৭৩)

আল্লাহ তা’আলার নামের উসিলায় দো’আর বর্ণনা :
জাত এবং সিফাতী নামের উসিলায়ও দোআ করা যায়েজ আছে। যেমন :
হে আল্লাহ! আমি আপনার জাত, সিফাত এবং আপনার ইজ্জতের উসিলায় প্রার্থনা করছি।
আল্লাহ তা’আলা কোরআনের মধ্যে এরশাদ করেছেন ;

“আল্লাহপাক এর জন্য অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে, তোমরা সেই নামে আল্লাহকে ডাক।” (সুরা আরাফ : ১৮০)
সুতরাং বুঝা গেল যে, যেরকম ভাবে নেক আমলের উসিলায় দোআ করা যায়েজ আছে, তেমনিভাবে আল্লাহ তাআ’লার জাত এবং সিফাতী নামের উসিলায় দোআ করাও যায়েজ আছে।

আসলে মানুষ একে অপরের দিকে মুহতাজ বা মুখাপেক্ষী। যার কিছু কারণ রয়েছে, যেমন তার জ্ঞান, শক্তি ইত্যাদির স্বল্পতা। কিন’ আল্লাহ তা’আলা সব রকম দুর্বলতা ও ত্রুটি থেকে মুক্ত। পৃথিবীর কোন বস’, বালুকণা থেকে লতাপাতার নড়াচড়া পর্যন- তাঁর ইলমের বাইরে নয়; বরং পত্যেকটির সম্পূর্ণ ইলম তিনি রাখেন। তেমনিভাবে তিনিই সর্বশক্তির অধিকারী। সুতরাং তার জন্য কারো দিকে মুখাপেক্ষী হওয়ার কোন কারণ নেই। সুতরাং মানুষ মানুষের দিকে মুখাপেক্ষী হতে পারে কিন’ আল্লাহ কারো দিকে মুখাপেক্ষী নন। তাই তিনি বান্দার ডাক শুনেন এবং যার যে প্রয়োজন তিনি নিজেই তা পূরণ করেন।
আল্লাহ তা’আলা সবসময় দিতে প্রস্তুত। কোরআনে আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন,
‘যখন আমার বান্দা তোমার থেকে আমার সম্পর্কে প্রশ্ন করবে, নিশ্চয়ই আমি তাদের সন্নিকটে, প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা আমি কবুল করি। যখন সে প্রার্থনা করে।’ (সূরা বাকারা ১৮৬)
উক্ত আয়াতের তাফসিরে হাফেজ ইবনে কাসীর (রাহ.) এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন :
‘বান্দা যখন দুই হাত উঁচু করে কোন ভাল জিনিসের প্রার্থনা করে, তখন সেই দুই হাতকে খালি ফেরত দিতে আল্লাহ ত’আলা লজ্জাবোধ করেন।’ (তাফসিরে ইবনে কাসীর ১/২১৯)
উপরে উল্লেখিত আয়াত এবং হাদীস থেকে প্রতীয়মান হলো যে, আল্লাহ তা’আলা বান্দার অতি নিকটে এবং তিনি কারো দোয়া ব্যর্থ যেতে দেন না। সুতরাং যিনি এত নিকটে এবং বড় মহান দয়ালু, সরাসরি তার দরবারে না গিয়ে অন্য কাউকে মধ্যস’ আকারে গ্রহণ করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং যে সকল লোক তাঁর দরবার ছেড়ে মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়ায়, সে সব সময় ঘুরে বেড়াতেই থাকবে, কখনও সে সফলকামী হতে পারবে না। সুতরাং হারাম ও নাজায়েয তরিকায় উসিলার মাধ্যমে দোআ করা থেকে বিরত থেকে বান্দার উচিত সরাসরি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

ভাল মন্দের মালিক একমাত্র আল্লাহ
কোরআনের মধ্যে নবী করিম (স.) কে খেতাব করে বলা হয়েছে যে,
‘আপনি বলে দিন যে, আমি আমার নিজের কল্যাণ ও অকল্যাণ সাধনের মালিক নই কিন্তু যা আল্লাহ চান তা হয়ে থাকে।’ (সূরা আরাফ ১৮৮, ইউনূস ৪৯)
এর দ্বারা বুঝা যায়, যদি একজন নবী নিজ কল্যাণ ও অকল্যাণের ক্ষমতা না রাখেন, তবে একজন বুজুর্গের পক্ষে কিভাবে অন্য কাউকে সাহায্য-সহানুভূতির ক্ষমতা থাকতে পারে?
এখান থেকে স্পষ্ট ভাবে বুঝা গেল যে, কোন ওলী বা বুজুর্গ কাউকে কোন কিছু দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না, সুতরাং মৃত হোক বা জীবিত হোক, সাধারণ লোক হোক বা ওলী-বুজুর্গ তাদের কাছে প্রার্থনা করা অথবা তাদেরকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই আক্বীদা পোষণ করে, তাদের উসিলায় দোয়া করা ভুল এবং শরীয়তপরিপন্থী কাজ। কোরআনে পাকের মধ্যে তাদেরকে বড় পাপিষ্ঠ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। অর্থ :
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে যে কেয়ামত পর্যন-ও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পূজা সম্পর্কেও বেখবর।’ (সূরা আহক্বাফ-৫)
বান্দার কাছে প্রার্থনা করা থেকে বাঁধা দেয়ার অন্য একটি কারণ :
হাদীসের দৃষ্টিতে দোআকে ইবাদতের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।
রাসূল (স.) বলেছেন, দোআই ইবাদাত। (মেশকাত শরীফ ১৯৪)
অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, দোআ ইবাদতের সারাংশ।
রাসূল (স.) বলেছেন যে, দোআ ইবাদাতের সারাংশ। (মেশকাত শরীফ ১৯৪)
আর একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, দোআর থেকে বেশী সম্মানিত আল্লাহর কাছে আর কোন কিছু নেই।
উল্লেখিত হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হলো যে, দোআ করা ইবাদাত আর সবাই একথা জানে যে আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করা জায়েয নেই। তাহলে কোন বান্দার কাছে প্রার্থনা করা কিভাবে জায়েয হতে পারে? তাই  দোআর উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে দোআ করা অবৈধ। অপর এক আয়াতে এসেছে “তোমাদের প্রভু বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের দোআ কবুল করব। নিশ্চয়ই যে সমস্ত- লোক আমার ইবাদাত থেকে অহংকার করবে তারা অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”  (সূরা গাফির-৬০)
মুর্খ লোকদের কথা “হে আবদুল কাদের জিলানী! আল্লাহর ওয়াসে- কিছু দাও।” হে শামসুদ্দীন পানিপথী! আল্লাহর ওয়াসে- কিছু দাও।” এভাবে বলা যায়েজ নেই। এমন করা কুফর এবং শির্‌ক। কিন’ যদি একথা বলে যে, হে আল্লাহ! শামসুদ্দীন পানিপথীর বদৌলতে আমার এই কাজটি করে দিন- তবে যায়েজ আছে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তোমরা ডাকছো, তারা তোমাদের মত বান্দা। কারো প্রয়োজন পূরণ করার শক্তি তাদের কাছে নেই। (এখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস-াকীম ৫৪)

ভুল সংশোধন
লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, কিছু সংখ্যক লোক আউলিয়ায়ে কিরামের মাজারে গিয়ে তাদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চায় এবং তাদের কাছে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তারা যাকে চান প্রদান করেন এবং যাকে চান বঞ্চিত করেন এবং এই মনোভাব নিয়ে তাদের কাছে সাহায্য সহানুভূতির আবেদন করে, যেটা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম এবং শিরক্‌। এই রকম ধারণা নিয়ে মাজারে যাওয়াও জায়েয নেই। সুতরাং তা থেকে বেঁচে থাকা আমাদের একান- প্রয়োজন।

মৃত ব্যক্তির কাছে দোয়ার আবেদন করা বেদআত

সাহাবা ও তাবেয়ীনদের থেকে মৃত ব্যক্তির কাছে দোয়ার আবেদন করার কথা কোন হাদীসে উল্লেখ নেই। মৃত ব্যক্তির কাছে দোআর আবেদন করা কমপক্ষে (মুশতাবাহ্‌) সন্দেহযুক্ত হয়ে গিয়েছে, যে সম্পর্কে হাদীসের মধ্যে বলা হয়েছে,
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এই দুই শ্রেণীর মাঝামাঝি রয়েছে কিছু সন্দেহযুক্ত কাজ যা অনেক মানুষই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত কাজ থেকে বেঁচে থাকবে, তার দ্বীন এবং ইজ্জত সংরক্ষিত থাকবে। কিন’ যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত কাজে লিপ্ত হবে সে হারামে লিপ্ত হতে বাধ্য। তার উপমা ঐ রাখালের ন্যায় যে সীমানা বেষ্টনীর নিকটে পশু পালন করে। এমতাবস্থায় তার পশু তার সংরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করার আশংকা রয়েছে। শুন, প্রত্যেক বাদশাহ্‌র জন্য একটি সংরক্ষিত স্থান রয়েছে, তেমনিভাবে আল্লাহর সংরক্ষিত স্থান হচ্ছে ঐ সমস- আহকাম যা হারাম। (বোখারী শরীফ : ১/১৩)
এই হাদীসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় মৃত ব্যক্তির নিকট দোআ চাওয়ার অর্থ হলো- সন্দেহযুক্ত কাজে লিপ্ত হওয়া, যা এক সময় হারামের দিকে ধাবিত করবে। আর এর থেকে বেঁচে থাকলে দ্বীন ও ইজ্জত সংরক্ষিত থাকে। সুতরাং এর থেকে বেঁচে থাকাই উত্তম। যেহেতু দোআর দ্বিতীয় যায়েজ তরিকা রয়েছে। তাই উক্ত তরিকায় দোআ করার কোন প্রয়োজনও নেই।

নবীদের কাছে দোয়ার আবেদন করা যায়েজ
মৃত ব্যক্তির কাছে দোআর আবেদন করার যে হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে, তার সম্পর্ক নবী রাসূল ব্যতীত অন্য লোকের সাথে, কিন’ নবীদের কাছে এবং নির্দিষ্টভাবে রাসূলুল্লাহ্‌ (স.) এর কাছে রাওজার নিকটে গিয়ে দোআ এবং শাফাআত এর আবেদন করা যায়েজ আছে বরং তা ভাল কাজ। তাই যদি কোন ব্যক্তির যেয়ারত এর তাওফিক হয় তার জন্য উচিৎ যেন সে রাসূলুল্লাহ্‌ (স.) এর দরবারে গিয়ে শাফাআত এর দরখাস্ত- করে।
যেয়ারতের আদব বর্ণনা করতে গিয়ে ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী এর মধ্যে বলা হয়েছে,
তারপর রাওজা শরীফের নিকটে গিয়ে সালাম করে বলবে যে, অমুক ব্যক্তি আপনার কাছে দোআর আবেদন করছে আপনি তার জন্য এবং সমস্ত- মুসলমানদের জন্য দোআ করুন। ( দেখুন ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী : ১/২৬৬ গুনিয়াতুন নাসেক : ৩৭৯ পৃ. ইখতিলাফ উম্মত : ৫৯)

উসিলার পঞ্চম অর্থ ও তার হুকুম
জীবিত ও মৃত নেক ব্যক্তির সাথে নিজ সম্পর্ক ও মুহাব্বতের উসিলায় দোআ করা যায়েজ। তাই যদি কোন ব্যক্তি উল্লেখিত উদ্দেশ্য নিয়ে এভাবে দোআ করে যে, হে আল্লাহ! আপনার ঐ নেক বান্দার ওয়সিলায় আমার প্রার্থনা কবুল করে নিন। এবং তার অন্য কোন নাযায়েজ মনোভাব যদি না থাকে, তাহলে এটাও যায়েজ আছে।
তার প্রমাণ হচ্ছে, একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে,
একজন অন্ধ ব্যক্তি রাসূল (স.) এর কাছে এসে বললেন, আল্লাহর নিকট আমার সুস্থতার জন্য দোআ করবেন। তখন রাসূল (স.) বলেছেন, তুমি যদি চাও তোমার জন্য দোআ করব, অথবা যদি চাও তুমি ধৈর্য ধরবে, কিন্তু ধৈর্য্য ধরাই তোমার জন্য উত্তম। সে বলল, আপনি দোআ করেন, তখন রাসূল (স.) তাকে ভালভাবে অজু করে এই দোআটি পড়ার আদেশ করলেন।
“হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নবী মোহাম্মদ (স.) যিনি রহমতের নবী, আমি তাঁর উসিলায় আপনার করুণা ভিক্ষা চাচ্ছি, আপনি আমার এই প্রয়োজন পূর্ণ করে দিন। হে আল্লাহ্‌! রাসূলের (স.) শাফাআত আমার জন্য কবুল করে নিন। (তিরমিযি শরীফ )
হযরত ওসমান বিন হানীফ (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত ওসমান (রাদি.) এর যুগে অন্য ব্যক্তিকে তার প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার জন্য এই নিয়মে দোআ করার কথা শিক্ষা দিয়েছেন,
একজন ব্যক্তি হযরত উসমান (র.) এর কাছে তার কোন প্রয়োজনে আসা যাওয়া করছেন। কিনতু হযরত ওসমান তার দিকে লক্ষ্য করেননি, তখন সে ব্যক্তি হযরত উসমান বিন হানিফ (র.) এর সাথে সাক্ষাত করে ফরিয়াদ করলেন। হযরত ওসমান (র.) তাকে বললেন, তুমি গিয়ে ভালভাবে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়। তারপর এই দোআটি পাঠ কর। যার উপরে অর্থ সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। (মাজমাউজ্জাওয়ায়েদ : ২/২৭৯)
উপরে উল্লেখিত হাদীস থেকে বুঝা যায়, যে জীবিত লোকের উসিলায় দোয়া করা যায়েজ এবং দ্বিতীয় হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, মৃত ব্যক্তির উসিলায় দোয়া করাও যায়েজ আছে।
এজন্যই শাইখুল ইসলাম আল্লামা তকী উসমানী বলেছেন,
তাওয়াসসুল বিজ-জাত এর পঞ্চম অর্থ হলো, আল্লাহর কাছে কোন বান্দার সম্পর্কের উসিলায় দোয়া করা এই আশা রেখে যে, সে আল্লাহর প্রিয় বান্দা। এই প্রকারের ব্যাখ্যা কিছু ওলামায়ে কিরাম এভাবে করেছেন যে, কোন নেক বান্দার বরকতে আল্লাহর নিকট দোয়া করা এবং জীবিত মৃত সবাই এর অন-র্ভুক্ত।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: