নফল রোযার ফযীলত ও মাসায়েল

posted by রজনীবধুয়া http://forum.projanmo.com/viewtopic.php?id=3133  অনুমতি নেয়ার সুযোগ হয়নি বলে দুঃখিত

শাওয়ালের ছ’রোযা
এ রোযার অনেক ফযীলত হাদীসে বয়ান করা হয়েছে। নবী (স) বলেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো এবং পরপর শাওয়ালের ছয় রোযা করলো, সে যেন হামেশা রোযা রাখলো।–(মুসলিম, আবু দাউদ)

নবী (স) আরও বলেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো এবং তারপর শাওয়ালের ছটি (৬টি) রোযা রাখলো সে গোনাহ থেকে এমন পাক হলো যেন তার মা তাকে আজই প্রসব করলো।–(মুসলিম, আবু দাউদ)

এটা জরুরী নয় যে, এ রোযাগুলো ঈদের পর একত্রে করতে হবে। একত্রেও করা যায় এবং মাঝে বাদ দিয়েও করা যায়।

তবে শাওয়ালের ছ তারিখে এ রোযা শুরু করা ভালো। তবে তা জরুরী নয়। পুরো মাসের মধ্যে যখনই সুবিধা হয় করা যেতে পারে।

আরাফাতের দিনের (হজ্জ্বের দিন) রোযা
হজ্জের মাসের নয় তারিখকে ইয়াওমে আরাফা বা আরাফাতের দিন বলা হয়। হাদীসে এ দিনের রোযার অনেক ফযীলতের কথা বলা হয়েছে। নবী (স) বলেন, আমি আল্লাহর সত্তা থেকে এ আশা রাখি যে, আরাফাতের দিনেরা রোযা আগামী বছর ও গত বছর এ উভয় বছরের কাফ্ফারা বলে গণ্য হবে। – (তিরমিযি)

আরাফাত দিনের রোযার সওয়াব এক হাজার দিনের রোযার সমান। – (তারগীব)
নবী (স) এ দিনে রোযার বড় যত্ন নিতেন। আরাফার দিনের আগের আট দিনের রোযারও বড়ো সওয়াব আছে। নবী (স) বলেন, “যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের মত আল্লাহর নিকট কোনো দিনই এত প্রিয় নয়। এ দশ দিনের রোযা সারা বছর রোযা রাখার সমান এবং এসব রাতের নফল নামায শবে কদর-এর নফলের সমান।”

আইয়ামে বীযের রোযা
প্রত্যেক চাঁদ মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখকে বীয বলে। এ হচ্ছে শুক্লপক্ষের বিশেষ কয়েকটি দিন। এগুলোকে বলা হয় আইয়ামে বীয- (উজ্জ্বল জ্যোস্না প্লাবিত তারিখগুলো)। নবী (স) এ দিনগলোর রোযার বড়ো তাকীদ করতেন।

হযরত কাতাদাহ্ বিন মালহান (রা) বলেন, নবী (স) আমাদেরকে তাকীদ করতেন যে, আমরা যেন চাঁদের তের, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোযা রাখি। তিন বলতেন, এ তিন রোযা সওয়াবের দিক দিয়ে হামেশা রোযা রাখার বরাবর।– (আবু দাউদ, নাসায়ী)

সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযা
নবী (স) স্বয়ং সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন এবং সাহাবীগণকে রাখার তাকীদ করতেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন।–(তিরমিযি, নাসায়ী)
উম্মতকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যে নবী (স) বলেনঃ
“সোম ও বৃহস্পতিবার আমল (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। আমি চাই যে, যেদিন আমার আমল পেশ করা হয় সেদিন রোযা রাখি।“- (তিরমিযি)

একবার সাহাবীগণ নবী (স)-কে সোমবার রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বললেনঃ
“ঐদিন আমার জন্ম হয়েছিল এবং ঐদিনই আমার ওপর কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হয়।”- (মুসলিম)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: