রাসুলুল্লাহ [স:] এর শেষদিন………..

মুসলমান হওয়ার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত এবং আরও বেশী গর্বিত হওয়া উচিত হযরতমুহাম্মদ [স:] এর উম্মত হওয়ার জন্যে।

আল্লাহতাআলা তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ [স:] কে সমস্ত নবী-রাসূলের নেতা হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর মধ্যে মানবীয় সকল গুণ ও পূর্ণতার সমাবেশ ঘটিয়েছেন। একজন মানুষের পূর্ণাংগ ও আদর্শ হওয়ার জন্যে যে যে গুণাবলী থাকা দরকার তার সবকিছুই সর্বোচ্চ সীমায় সন্নিবেশিত হয়েছে আমাদের মহানবী [স:] এর চরিত্রে। যা রাসুলুল্লাহকে [স:]সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিগণিত করেছে।

রাসুলুল্লাহ [স:] এর শেষদিন………..

হঠাত একজন ব্যক্তি এসে সালাম দিলো এবং ভেতরে আসার অনুমতি প্রার্থনা করলো।
কিন্তু ফাতিমা [রা:] ঐ ব্যক্তিকে কক্ষে ঢোকার অনুমতি দিলেন না। “দু:খিত, আমার আব্বা অসুস্থ,” বলে ফাতিমা দরজা বন্ধ করে দিলেন ।
তিনি তাঁর পিতার কাছে ফিরে গেলেন । তখন নবীজী [স:] চোখ খুললেন এবং ফাতিমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কন্যা, লোকটি কে ?”
“আমি জানি না আব্বা। এই প্রথমবার আমি তাকে দেখলাম,” ফাতিমা নম্রভাবে বললেন।
” একটা জিনিস জেনে রাখ……!
তিনি হলেন সেইজন, যিনি ক্ষণস্থায়ী আনন্দ কেড়ে নেন এবং মানুষের সাথে পৃথিবীর সম্পর্ক শেষ করে দেন।
তিনি হলেন মৃত্যুর ফেরেশতা,”- রাসুলুল্লাহ [স:] বললেন।
এ কথা শুনে ফাতিমা [রা:] কান্নায় ভেংগে পড়লেন।

আজরাইল [আ:] রাসুলুল্লাহর নিকট এলেন, কিন্তু নবীজী [স:] জিজ্ঞেস করলেন কেন জিবরাঈল [আ:] তাঁর সাথে আসেননি।
রাসুলুল্লাহ [স:] উদ্বিগ্নভাবে ফাতিমার দিকে তাকালেন যেন মনে হলো তিনি ফাতিমার চেহারার প্রতিটি অংশ স্মরণ করার চেষ্টা করলেন ।
এরপর জিবরাঈলকে ডাকা হলো।
জিবরাঈল [আ:] আকাশে প্রস্তুত হয়ে ছিলেন আল্লাহর হাবীব এবং ইহকাল-পরকালের নেতা মুহাম্মদ [স:] এর রুহকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্যে।

“হে জিবরাঈল, আল্লাহর সামনে আমার কি কি অধিকার থাকবে বলুন”- রাসুলুল্লাহ [স:] খুব দুর্বল কন্ঠে বললেন।
“আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে;
ফেরেশতারা আপনার রুহের জন্য অপেক্ষা করছে ।
জান্নাতসমূহ অধীরভাবে অপেক্ষা করে আছে আপনার জন্যে”- জিবরাঈল বললেন।

কিন্তু এসবকিছুই আল্লাহর রাসূলকে আশ্বস্ত করতে পারলো না। তার পবিত্র চক্ষুদ্বয় তখনো পর্যন্ত বেদনায় পূর্ণ ছিল।
“আপনি কি এসব সুসংবাদ শুনে খুশি নন?”- জিবরাঈল [আ:] বললেন।
“ভবিষ্যতে আমার উম্মতের পরিণাম কি হবে বলুন।”- রাসুলুল্লাহ [স:] জিজ্ঞেস করলেন।
” হে রাসুলুল্লাহ, দু:খ করবেন না।
আমি শুনেছি আল্লাহ বললেন:
“আমি জান্নাতকে সকলের জন্য হারাম করেছি, শুধুমাত্র আমার হাবীব মুহাম্মাদের [স:] উম্মত ছাড়া।”- জিবরাঈল জানালেন।

ফেরেশতা আজরাইল [আ:] কতৃ্ক জান কবজের সময় নিকট থেকে নিকটতর হলো। ধীরে ধীরে মহানবী [স:] এর রুহ বের হয়ে যেতে লাগলো। রাসুলুল্লাহর [স:] পবিত্র দেহ ঘামে পূর্ণ হলো এবং তাঁর ঘাঁড়ের স্নায়ু শক্ত হয়ে গেল।
“জিবরাঈল, কি কষ্টদায়ক এই সাকারাতুল মাওত !”- রাসুলুল্লাহ [স:] যন্ত্রণার সংগে ক্ষীণভাবে বললেন।
ফাতিমা তাঁর চোখ বন্ধ করে ফেললেন, আলী (রাঃ তাঁর পাশে ঘনিষ্ট হয়ে বসলেন এবং জিবরাঈল মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।
“হে জিবরাঈল, আমি কি এমন কিছু করেছি যার জন্যে আপনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন ?”- রাসুলুল্লাহ [স:] জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন।
“আল্লাহর প্রিয় হাবীবকে সাকারাতুল মাওত অবস্থায় কে দেখতে পারে !”- জিবরাঈল উত্তর দিলেন।
এসময় রাসুলুল্লাহ [স:] অসহনীয় বেদনার কারণে আর্তনাদ করে উঠলেন।
” হে আল্লাহ, কত বড় এই সাকারাতুল মাওত। তুমি আমাকে সকল কষ্ট দিয়ে দাও, কিন্তু আমার উম্মতকে কষ্ট দিও না।”

রাসুলুল্লাহর শরীর ঠান্ডা হয়ে এলো, তাঁর পা এবং বুক স্থির হয়ে গেলো। অশ্রুসিক্ত অবস্থায় তাঁর ঠোঁট কম্পিত হতে লাগলো যেন তিনি কিছু বলতে চাইলেন। আলী তাঁর কান রাসুলুল্লাহর [স:] মুখের কাছে নিয়ে গেলেন।
” উশিকুম বিস সালাতি, ওয়ামা মালাকাত আইমানুকু ”
” সালাতের যত্ন নাও এবং তোমাদের মধ্যকার অসহায় লোকদের দেখাশোনা কর।”

কক্ষের বাইরে তখন শোরগোল, সাহাবারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন। ফাতিমা দু’হাত দিয়ে নিজের চেহারা ঢেকে ফেললেন।
আবার আলী তাঁর কান রাসুলুল্লাহর মুখের কাছে নিলেন। নবীজীর চেহারা মোবারক তখন নীল বর্ণ ধারণ করেছে। অশ্রুসিক্ত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ [স:] উচ্চারণ করলেন:
” উম্মাতি, উম্মাতি, উম্মাতি ”
” আমার উম্মত, আমার উম্মত, আমার উম্মত। ”

এভাবেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটির জীবনাবসান ঘটলো।
আমরা কি কখনো একে অপরকে আমাদের রাসুলুল্লাহর [স:] মতো ভালোবাসতে পারব ?
আমাদের জন্য মহানবীর [স:] কি পরিমাণ মমতা ছিলো, ভালবাসা ছিল !!
নবীজীর [স:] প্রতি আল্লাহর অশেষ রহমত বর্ষিত হোক।

Permission taken from Source : http://prothom-aloblog.com/users/base/talhatitumir/ Brotherতালহা তিতুমীর

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: