একজন লেখকের আকুতি মিনতি

Permission taken from Source  http://prothom-aloblog.com/users/base/ahsanullahsumon/

একটি বইয়ের উপর নযর দিচ্ছি তার নাম হচ্ছে- আখেরাতের প্রস্তুতি। বইয়ের প্রথমেই লেখক নিজের কিছু আকুতি মিনতি তুলে ধরেছেন, পড়ে খুব ভাল লাগল। কিন্তু এই আকুতি মিনতি কি একমাত্র লেখকের নিজের জন্য? না এই আকুতি মিনতি আমাদের সবার হওয়া উচিত। হাদিসে তো এমনও এসেছে যে প্রত্যেক নামাযকে জীবনের শেষ নামায মনে করে মনযোগ দিয়ে পড়তে আর আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়ার জন্য। একটি পর্বে লিখলে বিষয়টি বড় হয়ে যাবে মনে করে বিষয়টিকে কয়েকটি পর্বে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। লেখকের এই আকুতি আমাদের সবার আকুতি মিনতি হবে এই আশা রাখছি।

* ইয়া রাব্বুল আলামীন! জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজকে জানা-অজানা অনেক গুনাহ চোখের সামনে ভাসছে। হে আমার হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ, আমার গুনাহর চেয়ে তোমার রাহমাত যে অনেক অনেক বেশী। তুমি কি তোমার এই অসহায়, অনুতপ্ত বান্দাহর গুনাহ মাফ করতে পার না? তুমি তো অবশ্যই পারো, তুমিই তো ঘো্ষনা দিয়েছ – “নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন”। হে আমার পরওয়ারদেগার আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। সেই সাথে পাঠক পাঠিকাকেও ক্ষমা করে দাও। আর আমাদেরকে তোমার রাহমাতের ছায়ায় স্থান দিও।

* হে আমার আল্লাহ, পিতা মাতার খেধমত করতে তুমিই হুকুম দিয়েছিলে। কিন্তু একজন আদর্শ সন্তান হিসেবে যেভাবে পিতামাতার খেদমত করতে বলেছিলে তা তো করতে পারিনি। পিতামাতাকে এত কষ্ট দিয়েছি যে পিতামাতার যথার্থ খেদমত করতে না পেরে নিজেকে আজ অপরাধী মনে করছি। তোমার রাসুল (সাঃ) বলেছেন পিতামাতা সন্তুষ্ট থাকলে তুমি সন্তুষ্ট হবে। হৃদয়নিঃসৃত অনুভুতিসহ অশ্রুসিক্ত জবান দিয়ে বলছি- “হে আমার রব, তোমার রহম দ্বারা আমার পিতামাতাকে তুমি সন্তুষ্ট করে দাও, যেমন ছোট বেলায় তারা আমাকে রহম করেছে। যাতে আমিও তোমার সন্তুষ্টি পেতে পারি।

* হে আমার রব, তুমিতো জান ব্যস্ততার কারনে আমার দায়িত্ব পালনের যে হক আমার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের প্রতি ছিল তা আমি পালন করতে পারিনি। তাদেরকে যে ইলম, যে চরিত্র, যে সহায় সম্বল দিয়ে যাবার কথা ছিল তার কোনকিছুই ভালমত করতে পারিনি। এসব চিন্তা করে নিজেকে বড় অসহায় ও অপরাধী মনে করছি। জানিনা কিভাবে তুমি আমাকে তোমার প্রিয়জনদের কাতারে সামিল করবে। হে আল্লাহ, তুমিতো অভিভাবক হয়ে এ অভাব পুরন করে দিতে পার। হে আমার মহান মনিব, মেহেরবানী করে আমার ছেড়ে যাওয়া স্ত্রী-পুত্র কন্যাসহ নিকটআত্মীয়দেরকে তুমি হেফাজত করো…. আমাকে মাফ করে দাও। তাদের মনে সান্তনা দিয়ে তাদেরকে এমন আমল করার তৌফিক দিও যাতে একই সাথে জান্নাতে গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাত হয়।

* ইয়া রাব্বুল আলামীন, দীর্ঘদিন একই সাথে চলাফেরা করেছি যে সমস্ত দায়িত্বশীল বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মীদের সাথে, তাদেরকে ছেড়ে চলে যেতে মন তো চায় না, কিন্তু তোমার ডাকে হাজির হচ্ছি। যে আল্লাহ তুমি ঐ সমস্ত মায়া মহব্বতের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব, সহকর্মীদের এমন ঈমান ও ভাল আমল করার তৌফিক দাও যাতে দুনিয়ায় যেভাবে একসাথে ছিলাম আখেরাতে জান্নাতের গিয়েও একই সাথে থাকতে পারি। তাদের মনে এ অবস্থা সৃষ্টি করে দাও যখন তোমার কাছে তারা দোয়া করবে যেন সেই দোয়াতে আমিও সামিল থাকি তোমার মাগফেরাত ও রাহমাত যেন পেতে পারি। আমীন

প্রতিটি নিশ্বাসে আমরা আল্লাহর দিকে অগ্রসর হচ্ছি। শ্বাস প্রশ্বাস যেন একটি করাত, যার সাহায্যে মানুষের জীবনকে কেটে ফেলার কাজ চলছে। মানুষ বুঝতে পারুক আর না পারুক একাজ অনবরত প্রতিটি মুহুর্তে চলছে। যখন বাতাস গ্রহণের কৌটা আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক শেষ হয়ে যাবে তখন আর নিশ্বাস গ্রহণ করার ক্ষমতা কারো থাকবেনা। প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত আমাদেরকে এভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় করার কাজে নিয়োজিত। আল্লাহর কাছে ফিরে যাবার চেতনা ও পেরেশানি সৃষ্টি করাই হচ্ছে এসবের লক্ষ্য। সূরা ইনশিকাফ এর ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “হে মানুষ তুমি তীব্র আকর্ষণে নিজের রবের দিকে চলে যাচ্ছ এবং তার সাথেই সাক্ষাত করবে।”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: