আখেরাত (সংগৃহিত ধন্যবাদান্তে http://quranwala.wordpress.com/)

মানুষের জীবনে আখেরাতের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রভাব অপরিসীম। আখেরাতের উপর যথাযথ ও দৃঢ় বিশ্বাস মানুষের জীবন-প্রবাহকে একদিকে প্রবাহিত করে আর আখেরাতে অবিশ্বাস মানুষের জীবনধারাকে পরিচালিত করে ভিন্ন দিকে। ইসলামী জীবনধারায় তাই আখেরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আখেরাত তথা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি ঈমানদার-মুসলমানদেরকে পৃথিবীতে দায়িত্বানুভূতি সম্পন্ন মানুষে পরিণত করে এবং তাদের জীবনধারাকে পরিচালিত করে একটি সুনিয়ন্ত্রিত ধারায়। একজন সত্যিকার মুমিন-মুসলমান কখনো আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারে না। সুতরাং একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের প্রয়োজনে সর্ব প্রথম সমাজের মানুষকে আখেরাতমুখী করে তোলা অপরিহার্য। আখেরাতের প্রতি প্রবল ঈমান ছাড়া কারো পক্ষে ঈমানদারীর পথে এক কদম অগ্রসর হওয়াও সম্ভব নয়। কারণ মানুষের জীবনদৃষ্টি যতক্ষণ পর্যন্ত আখেরাত পর্যন্ত প্রসারিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষে দুনিয়ার মোহ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না; তার দৃষ্টি বৈষয়িকতার সীমার মধ্যেই আটকে থাকবে। দুনিয়া পাওয়ার ধান্দাই তাকে সারাক্ষণ মশগুল রাখবে ঃ

‘বেশি! বেশি! দুনিয়ায় একে অন্য থেকে বেশি পাওয়ার ধান্দাই তোমাদেরকে ভুলিয়ে রেখেছে। এমনকি (ধান্দাবাজি করতে করতেই) তোমরা কবরে পেঁৗছে যাও। কখখনো না, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। আবার (শুনে নাও), কখখনো না, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। কখখনো না, যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে (এই আচরণের পরিণাম) জানতে! (তাহলে তোমরা এ ধরনের কাজ করতে না)। নিশ্চয়ই তোমরা জাহান্নাম দেখতে পাবে। আবার (শুনে নাও), একেবারে স্থির, নিশ্চিতভাবেই তোমরা তা দেখতে পাবে। তারপর নিশ্চয়ই সেদিন তোমাদেরকে (দুনিয়ার) এই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’­[তাকাসুর]; ‘যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং অহংকারী।’­[নাহল ঃ ২২]; ‘ যে আখেরাতকে বিশ্বাস করে না, সে সরল রাস্তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।’ ­[আল মু’মিনুন ঃ ৭৪]

আখেরাতের প্রতি কারো ঈমান যদি দুর্বল হয়, তাহলে আল্লাহ, রাসূল, ফিরিশতা, কোরআনের প্রতি ঈমান ও ইসলামী সমস্ত বিধি-বিধানও তার কাছে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং তারা যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনারও দাবি করে তাহলেও তারা ঈমানদার হতে পারবে না। কারণ আল্লাহর কোন আয়াতকে অবিশ্বাস-অস্বীকার করা মূলত আল্লাহকেই অবিশ্বাস-অস্বীকার করা। আল্লাহ বলেছেন ঃ

‘এটি (নামাজ) খুব কঠিন কাজ, কিন্তু যারা বিনয়ী তাদের পক্ষে খুবই সহজ। যারা মনে করে তাদেরকে প্রতিপালকের মুখোমুখি হতে হবে এবং তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।’ ­[বাকারা ঃ ৪৫-৪৬]

‘যারা পরকালকে বিশ্বাস করে তারাই কুরআনের প্রতি বিশ্বাসী এবং তারা নামাজকে সংরক্ষণ করে।’ ­[আনআ’ম ঃ ৯২]

‘যারা আমার আয়াত ও আখেরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করে তাদের সব আমলই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা যেমন আমল করেছে তেমন ফলাফলই পাবে।’ ­[আল আ’রাফ ঃ ১৪৭]

এমনিভাবে আখেরাত সম্পর্কে ভুল ধারণাও মানুষকে গোমরাহীর দিকে ধাবিত করে। জাহেলিয়াতের যুগে লোকেরা পীর, দরবেশ, আলেম ও বুযুর্গ ব্যক্তিদেরকে উসিলা করে পরকালে পার পাওয়ার স্বপ্ন দেখত এবং তাদেরকে নাযাতের কাণ্ডারী ও যিম্মাদার মনে করতো। ইহুদিরা মনে করতো তারা ঈশ্বরের বংশধর। বংশ, গোত্র ও সাম্প্রদায়িক কারণে তারা শাস্তির ঊর্ধ্বে। বেহেশত তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এমনিভাবে কিছু লোক পীর, দরবেশ, আলেম ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাথে নিজেদের আত্মীয়তা-ঘনিষ্ঠতা আবিষ্কার করতো আর মনে করতো ঐ সব ব্যক্তিরাই তাদেরকে নাযাতের ব্যবস্থা করে দিবে। এসব কারণে দুনিয়ার জীবনে আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি তাদের ছিল না। যার কারণে তাদের জীবনধারা পরিচালিত হতো বিভ্রান্তির পথে, ইসলামের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না। এসব লোকের বিভ্রান্তি দূর করাও ছিল মহানবীর জীবনের অন্যতম মিশন। তিনি পবিত্র কালামের বাণী উচ্চারণের মাধ্যমে তাদেরকে হুশিয়ারি করে গেছেন ঃ

‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা বলে ঃ আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। বল, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে শাস্তি দেবেন কেন? বরং তোমরাও অন্যদের মতই সাধারণ মানুষ মাত্র। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন এবং যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেবেন। আকাশ, পৃথিবী ও এর মধ্যকার সব কিছুর উপর আল্লাহর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত এবং তার দিকেই সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’­[আল মায়েদা ঃ ১৮]

‘তারা বলে, ইহুদী অথবা খ্রিস্টান ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। এটি তাদের বাসনা। বলে দাও, তোমরা সত্যবাদী হলে প্রমাণ উপস্থিত কর। হঁ্যা, যে নিজেকে আল্লাহর নিকট সোপর্দ করে দিয়েছে এবং সৎকর্মশীল হয়েছে, তার জন্য তার পালনকর্তার নিকট পুরস্কার রয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’­বাকারা ঃ ১১১-১১২]

‘তারা বলে, জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। যদিওবা করে তবে তা নির্দিষ্ট কয়েকদিনের জন্য মাত্র। জিজ্ঞেস কর, তোমরা কি এ ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি পেয়েছো যে, তিনি কখনও তা ভঙ্গ করবেন না? নাকি তোমরা যা জানো না তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছো? হঁ্যা, যে ব্যক্তি গোমরাহীর মধ্যে লিপ্ত হয়েছে এবং পাপাচারের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে তারা জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী হবেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’­[বাকারা ঃ ৮৯-৮২]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: