আল্লাহর ভয় ভীতির দৃষ্টান্ত

কুরআন, হাদিস ও বুজুর্গানে দ্বীনের ঘটনাবলীতে আল্লাহভীতির কথা এত বেশী আলোচিত হয়েছে যে, সেগুলোর গণনা করাসম্ভব নয়। তবে সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায় যে, আল্লাহর ভীতির ও দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণতা আনয়ন করে মানব জীবনকে সুস্ঠ সুন্দর করে তোলাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন- “আল্লাহর ভয় সমস্ত জ্ঞান ও হিকমাতের মূল।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) আল্লাহর ভয়ে এতবেশী ক্রন্দন করতেন যে, অবশেষে তাঁর দুটি চোখই বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল। একদিন এক ব্যক্তি তাঁকে ক্রন্দন করতে দেখে আশ্চর্যবোধ করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি আমার কান্নায় আশ্চর্যবোধ করছ? অথচ আল্লাহর ভয়ে চন্দ্র, সূর্য ও কাঁদে। একদা একজন আনসারী সাহাবী (রাঃ) তাহাজ্জুদের নামাযে খুব কেঁদে বলেছিলেন, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। তাঁর কথা শুনে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তুমি আজ ফেরেশতাদেরও কাঁদিয়ে ফেলেছ। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) একদিন খুব কান্নাকাটি করছিলেন। তাঁর কান্না দেখে তাঁর স্ত্রীও কাঁদতে লাগলেন। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? স্ত্রী বললেন, যে কারনে আপনি কাঁদছেন। তিনি বললেন আমি এই কারনে কাঁদছি যে, জাহান্নামের উপর দিয়েতো আমাদের যেতেই হবে। জানিনা তখন সে পথ অতিক্রম করতে পারব কিনা। যুরারাহ ইবনে আওফা (রাঃ) একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলেন। ক্বিরাতের মধ্যে যখন “যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে” পর্যন্ত পৌঁছে, আয়াতটি পাঠ করার সাথে সাথে বেহুশ হয়ে ইন্তেকাল করেন। হযরত খোলায়েদ নামক একজন সাহাবী (রাঃ) একদিন নামায পড়ছিলেন। ক্বিরাতের মধ্যে যখন “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে” এ আয়ত পর্যন্ত পৌছলেন, তখন আয়াতটি তিনি বার বার পড়তে লাগলেন। খানিকক্ষন পর ঘরের এক কোন থেকে আওয়াজ এল তুমি এটা আর কতবার পড়বে? তোমার বার বার পড়ার দরুন এ যাবত চারজন জীন মরে গেছে।
বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত ফোযায়েল (রহঃ) বলেন আল্লাহর ভয় যাবতীয় নেক কর্মের দিক নির্র্দেশ করে। হযরত শিবলী (রহঃ) এর কথা কে না জানে তিনি বলেন, আমি যখনই আল্লাহকে ভয় করেছি তখনই আমার ইলমও হিকমাতের এমন দ্বার খূলে গিয়েছে যা ইতিপূর্বে কখনো খোলেনি। হাদিস শরীফে বর্নিত আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি বান্দার উপর দুটি ভয় একত্রে দিই না এবং একই সময়ে দুটি বিষয়ে নিশ্চিন্ত করিনা।বান্দা যদি দুনিয়াতে আমার বিষয়ে উদাসীন থাকে , তাহলে আখিরাতে আমি তাকে ভয়ের সম্মুখীন করব। আর যদি দুনিয়াতে আমাকে ভয় করতে থাকে , তাহলে আখিরাতে তাকে আমি নিশ্চিন্ত রাখব। রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, প্রত্যেক বস্তু তাকে ভয় করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ভয় করে, প্রত্যেক বস্তু তাকে ভয় প্রদর্শন করে। ইয়াহইয়া ইবনে মোয়ায (রাঃ) বলেন, হতভাগা মানুষ যদি জাহান্নামকে এতটুকু ভয় করত যতটুকু দারিদ্রকে ভয় করে, তাহলে সোজা জান্নাতে প্রবেশ করত।

Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/ahsanullahsumon/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: