All the ummah of Prophet Muhammad (PBUH)

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা

I welcome u all to exchange our thought about Islam. If Allah permits I m gonna extend our archive insallah on a regular basis. I will come up with all my gratitude to those people who r writing for the sake of Islam. I just give a try to collect all resources from various sites and store it in a single place where people of  Islam can be benefited. If a single person seems this helpful, I will be grateful to Allah SWT.

Bangla Preview Problem ??

If there are any problem to view Bangla, please download these  3 fonts.  Siyam Rupali, SolaimanLipi, Vrinda And copy them :

http://www.mediafire.com/?n44weuesjna

http://www.mediafire.com/?mo3imzsszm

http://www.mediafire.com/?ylxd1ym1wrg

and then paste them. “C:\Windows\Fonts” [Windows XP]  “C:\WinNT\Fonts” [Windows 2000]

আল্লাহতায়ালার প্রতি ভালোবাসা

Permission taken from Source     http://islamicbanglabd.blogspot.com/

যাকে ভালোবাসা যায়, জান দিয়ে তার সন্তুষ্টির জন্য নৈকট্য অর্জনই ভালোবাসার প্রকৃত পরিচয়। এ সম্পর্কে রাসূলে করিম সাঃ এরশাদ করেছেন­ আল্লাহপাক পরওয়ার দেগারের ইচ্ছায় রাজি (খুশি) থাকাই হচ্ছে মুহাব্বতের বড় দরজা। ভালোবাসা প্রবল ও খাঁটি হলে অন্য কোনো কিছু সেখানে দাঁড়াতে পারে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি মুহাব্বত সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সুতরাং এই মুহাব্বত ও ভালোবাসা সত্যিকারভাবে প্রমাণিত হবে আল্লাহপাকের প্রতি আনুগত্যের ভেতর দিয়ে। আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি-মর্জি যে চায় সে উচ্চ মরতবায় পৌঁছে যায়। কেননা সে তো যেকোনো কোরবানি (ত্যাগের) পরিবর্তে আলামিনের খুশি তালাশ করে। অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে দুঃখ-কষ্ট অ্লান বদনে হজম করে। মনের জোর উন্নয়নের ধারায় বজায় রেখে আল্লাহপাকের হুকুম-আহকাম নিবেদিত চিত্তে পালন করে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি মুহাব্বত সম্পর্কে হজরত হাসান বসরি রহঃ বলেছেন, আল্লাহর মুহাব্বত যার হাসিল হয় সে সত্যিকারভাবে আল্লাহকে খাসভাবে ভালোবাসতে শুরু করে। আর যে দুনিয়াকে কিনে ফেলে সে দুনিয়াকে মুহাব্বত করতে শুরু করে। সে আর রাব্বুল আলামিনের মুহাব্বত করতে পারে না। মুমিন মুসলমান কেবল আদেল অবস্থায় খুশি হতে পারেন। কেননা যার মধ্যে আল্লাহর স্মরণ থাকে সে চিন্তিত না হয়ে পারে না। একবার হজরত ঈসা আঃ কিছু লোককে জীর্ণশীর্ণ বেশে দেখতে পান। তাদের প্রশ্ন করেন তাদের এ হাল কেন। উত্তরে তারা বলেন, সারাক্ষণ তারা খোদার ভয়ে ভীত থাকেন। হজরত ঈসা আঃ তখন বলেন, আল্লাহপাক তোমাদের ভালোবাসেন।
কাজেই এ কথা বলা যেতে পারে দুনিয়ার সব কাজকর্ম এবং নেক আমল আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি ভালোবাসা দৃঢ় করার উপলক্ষ মাত্র। রাসূল সাঃ এরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহপাক ও তার পেয়ারা রাসূলকে দুনিয়ার সব কিছু হতে ভালো না বাসে তার ঈমানের আকিদা পূর্ণ নয়। ঘটনাচক্রে এক সাহাবি হজরত মুহাম্মদ সাঃ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘ঈমান কী’? জবাবে রাসূল সাঃ বলেছিলেনঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং তদীয় প্রিয় রাসূল সাঃ-এর সাথে সর্বাপেক্ষা অধিক মুহাব্বতের নাম ঈমান। কেউ পূর্ণ মুসলমান হতে পারবে না যতক্ষণ সে তার পরিবার-পরিজন ধনদৌলত এবং দুনিয়ার সব কিছু থেকে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সাঃ-কে অধিকতর মুহাব্বত ও ভালোবাসবে।
যে আল্লাহকে ভুলে দুনিয়া নিয়ে মত্ত থাকে তার মতো জাহেল ব্যক্তি আর কেউ নেই। যারা মাতা-পিতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-পুত্র, আত্মীয়স্বজন এবং গরিব-দুঃখীজনকে মানবতার দৃষ্টিতে যথারীতি ভালোবাসে, সে মূলত আল্লাহরই হুকুমের তাঁবেদারি করে। যারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে মুহাব্বত করে এবং হজরত মুহাম্মদ সাঃ ও অন্য নবী-পয়গম্বর, অলি-আউলিয়াদের মুহাব্বত করে তাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর রহমত, বরকত, নেয়ামত ও অশেষ করুণা। যারা আল্লাহ পাকের খুশি ও মর্জিতে খুশি থাকে এবং আল্লাহ মহানের জন্য সর্বাবস্থায় আত্মসমর্পিত থাকে এবং যত বড় দুঃখ-কষ্ট আসুক না কেন তারা আল্লাহর কথা স্মরণ করে নিজেকে ধীরস্থির রাখতে পারে, তারাই কার্যত আল্লাহপাকের মুহাব্বত ও ভালোবাসায় নিজেকে নিবেদিত চিত্তে উৎসর্গ করতে পেরেছে। কথিত আছে­ হজরত আয়েশা রাঃ একটি নখ এক সময় উপড়ে যায়। তা দেখে হজরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন­ তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। উত্তরে আয়েশা রাঃ বলেন, এ কষ্ট যন্ত্রণার বদলে পরবর্তী পুরস্কারের আনন্দ অ-নে-ক বেশি। অতএব বলা যেতে পারে, দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হবে। কেননা পরকালে আল্লাহ পাকের মুহাব্বত ছাড়া অন্য কোনো সম্বল নেই। সুতরাং সেই ব্যক্তি সবচেয়ে সৌভাগ্যশালী, যে আল্লাহর মুহাব্বতের রঙে রঞ্জিত। নিজেকে যে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করেছে সে-ই মঙ্গল ও কল্যাণ লাভ করেছে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে বিফল মনোরথ হয়ে পড়বে। রাব্বুল আলামিনের মুহাব্বত ও ভালোবাসার স্বীয় জীবনের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস অতিবাহিত করতে পারি­ আল্লাহপাক যেন আমাদের সেই তৌফিক দেন।
রেহানা ফারুক

যারা পড়লেন অনেক অনেক ধন্যবাদ , আল্লাহ আপনার আমার সকলের ভালো করুন আমিন

দুঃখিত কোন কমেন্ট চলবে না

হাদীস পড়ি জীবন গড়ি পর্ব ১

Permission taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

হাদীস কোথায় পাবো?

এখন যদি প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহর কিতাব কুরআন তো আমাদের ঘরে ঘরে আছে। কিন্তু নবীর হাদীস কোথায় পাবো? জবাব কিন্তু সোজা। আল্লাহর কিতাবের মতো নবীর হাদীসও কিন্তু আমরা ঘরে ঘরে রাখতে পারি। সেই ব্যবস্থা আমাদের দেশে আছে। কথাটি বুঝিয়ে বলছি।
নবীর সাহবীগণ নবীর কাছ থেকে তার হাদীস জেনে ও শিখে নিয়েছিলেন। সাহাবীদের কাছ থেকে তাদের পরবর্তী লোকেরা হাদীস জেনে ও শিখে নেন। অতঃপর তাদের থেকে তাদের পরবর্তী লোকেরা হাদীস জেনে ও শিখে নেন। এভাবে এক দেড়শ বছর চলতে থাকে।
এ সময় কিছু লোক হাদীস লিখেও রাখতেন, আবার কিছু লোক মুখস্থও করে রাখতেন।
এরপর খলীফা উমর ইবনে আবদুল আযীয হাদীসের শিক্ষকগণকে নির্দেশ দেন, যেখানে যার যে হাদীস জানা আছে, তা সব যেনো সংগ্রহ করে লিখে ফেলা হয়। ইসলামের বিজয়ের সাথে সাথে সাহাবীগণ ছড়িয়ে পড়েছিলেন দেশে দেশে। সেই সাথে নবীর হাদীসও ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে। তাই হাদীসের ছাত্র ও শিক্ষকগণ হাদীস সংগ্রহের জন্যে ছুটে বেড়ান দেশ থেকে দেশান্তরে। এভাবে তারা সীমাহীন কষ্ট স্বীকার করে বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা নবীর সমস্ত হাদীস সংগ্রহ করে ফেলেন। যিনি যেখানে যে হাদীস পেয়েছেন, তিনি তা সংগ্রহ ও সংকলন করে ফেলেন।
এভাবেই সংকলিত হয়ে যায় নবীর হাদীসের বিরাট বিরাট গ্রন্থ। তাদের সংকলন করা হাদীসের গ্রন্থগুলো আমাদের কাছে এখন ছাপা হয়ে মওজুদ রয়েছে। কয়েকজন বড় বড় হাদীসের উস্তাদ এবং তাদের সংগ্রহ ও সংকলন করা হাদীস গ্রন্থগুলোর নাম বলে দিচ্ছি :
১. মালিক ইবনে আনাস (৯৩-১৬১)। তার সংকলিত গ্রন্থের নাম ‘মুয়াত্তা’ বা ‘মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক।’
২. আহমদ ইবনে হাম্বল (১৬৪-২৪১) হিজরী)। গ্রন্থ: মুসনাদে আহমদ।
৩. মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিজরী)। গ্রন্থ: ‘আল জামেউস সহীহ’। সহীহ বুখারী নামে সুপরিচিত।
৪. মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ নিশাপুরি (২০২-২৬১ হিজরী)। গ্রন্থ: সহী মুসলিম।
৫. আবু দাউদ আশআস ইবনে সুলাইমান (২০২-২৭৫ হিজরী) । গ্রন্থ: সুনানে আবু দাউদ।
৬. আবু ঈসা তিরমিযী (২০৯-২৭৯ হিজরী)। গ্রন্থ: সুনামে তিরমিযী।
৭. আহমদ ইবনে শুয়াইব নাসায়ী (মৃত্যু-৩০৩ হিজরী)। গ্রন্থ: সুনানে নাসায়ী।
৮. মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ (মৃত্যু ২৭৩ হিজরী)। গ্রন্থ: সুনানে ইবনে মাজাহ।
এই বিখ্যাত আটজন মুহাদ্দিসের সংকলিত এই আটখানা হাদীস গ্রন্থ সবচাইতে বেশী খ্যাতি অর্জন করেছে। শেষের ছয়খানা গ্রন্থ ‘সিহাহ সিত্তা বা বিশুদ্ধ ছয়গ্রন্থ’ নামে পরিচিত।
এই আটখানা এবং এ রকম অন্যান্য বড় বড় গ্রন্থ থেকে বিষয় ভিত্তিক হাদীস বাছাই করে আবার অনেকগুলো গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে। এগুলো হলো বাছাই করা সংকলন। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলোঃ
১. মিশকাতুল মাসাবীহ। সংকলন করেছেন অলীউদ্দীন আল খতীব।
২. বুলূগুল মারাম। সংকলন করেছেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফেযে হাদীস এবং সহীহ্‌ বুখারীর ব্যাখ্যাতা ইবনে হাজর আসকালানী।
৩. রিয়াদুস সালেহীন। সংকলন করেছেন সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাতা ইয়াহিয়া ইবনে শরফ নববী ।
৪. মুনতাকিল আখবার। সংকলন করেছেন আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়া। ইনি ইমাম ইবনে তাইমিয়ার দাদা।
এগুলো ছাড়াও আরো অনেকগুলো সংকলন রয়েছে। বাংলা ভাষায়ও বেশ কিছু সংকলন তৈরী হয়েছে, অনুবাদ হয়েছে ও প্রকাশ হযেছে। সুতরাং হাদীস কোথায় পাবো? সে প্রশ্নের জবাবও আমরা পেয়ে গেলাম।

এই আটখানা গ্রন্থের প্রায়গুলোই বাংলায় প্রকাশ হয়েছে। বাকীগুলোও হওয়ার পথে।

হাদীস কেন পড়বো?

ইসলাম আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা। মানুষ যেনো তাঁর পছন্দনীয় পন্থায় জীবন যাপন করতে পারে, সে জন্যে আল্লাহ তায়ালা দয়া করে মানুষকে সে পথ ও পন্থার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। কোন পথে চললে তিনি খুশী হবেন, তা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। কোন্‌ পথে চললে তিনি নারাজ হবেন, তাও বাতলে দিয়েছেন। জীবন যাপনের সঠিক নিয়ম কানুন বলে দিয়েছেন। এভাবে তিনি মানুষকে তার মুক্তির পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। সফলতা লাভের উপায় বলে দিয়েছেন্‌ আর এই যে মুক্তির পথ আল সফলতা লাভের উপায়, তারই নাম হলো ‘ইসলাম’।
সুতরাং মানুষ যদি আল্লাহর পছন্দনীয় পথে চলতে চায়, তবে তাকে অবশ্যি জানতে হবে, আল্লাহর পছন্দনীয় পথ কোনটি? তাকে অবশ্যি জানতে হবে, তার মুক্তির পথ কোনটি? তার সফলতা অর্জনের উপায় কি? অর্থাৎ তাকে আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু , ইসলাম সম্পর্কে জানার উপায় কি?
শেষ যামানার মানুষ যেনো ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে, আল্লাহর পছন্দীয় পথের সন্ধান পেতে পারে, সে জন্য আল্লাহ তায়ালা আরব দেশের একজন অত্যন্তভালো মানুষকে তার বানীবাহক নিযুক্ত করেন । তার নাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তার কাছে মানুষেরর জন্যে তার পছন্দনীয় জীবন ব্যবস্থা ইসলাম অবতীর্ণ করেন। তার কাছে একখানা কিতাব নাযিল করেন। এ কিতাবের নাম আল কুরআন। এ কিতাবের সমস্ত অর্থ ও মর্ম তিনি তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য কুরআন ছাড়াও তিনি আরেক ধরনের বাণী তার উপর অবতীর্ণ করেছেন। মানুষ কিভাবে আল কুলআন অনুযায়ী জীবন যাপন করবে, তা বুঝিয়ে দেবার দায়িত্বও তিনি তার উপর অর্পণ করেছেন।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে গেছেন্‌ তিনি সঠিকভাবে আল্লাহর কিতাব মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি তা বুঝিয়ে দিয়েছেনঃ
১. তার বাণী, বক্তব্য ও কথার মাধ্যমে,
২. তার কাজকর্ম এবং চরিত্র ও আমলের মাধ্যমে,
৩. অন্যদের কথা ও কাজকে সমর্থন করা এবং অনুমতিদানের মাধ্যমে।
নবী হিসেব তার এই তিন প্রকারের সমস্ত কাজকেই হাদীস নলা হয়। এই তিন ধরনের কাজকে তিন ধরনের হাদীস বলা হয়ঃ
১. তিনি তার বাণী, বক্তব্য ও কথার মাধ্যমে মানুষকে যা কিছু বলে গেছেন ও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার নাম হলো, বক্তব্যগত হাদীস।
২. তিনি তার কর্ম, চরিত্র ও আমারৈর মাধ্যমে যা কিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন তার নাম কর্মগত হাদীস।
৩. তিনি যা কিছুর সমর্থন ও অনুমোদন দিয়ে গেছেন, তার নাম হলো, সমর্থনগত বা অনুমোদনগত হাদীস।
তাহলে আমরা এখন বুঝতে পারলাম, আল্লাহর পছন্দনীয় পথ কোনটি? তার অপছন্দনীয় পথই বা কোনটি? আর কিভাবেই বা তার পছন্দনীয় পথে চলতে হবে? এসব কথা ও নিয়ম কানুন আল্লাহর তায়ালা তার নবীকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তায়ালার পাঠানো এসব বানী, বক্তব্য ও নিয়ম কানুনের সমষ্টির নাম হলো ইসলাম।
আমরা একথাও জানতে পারলাম, আল্লাহ তায়ালা যে তার নবীর মাধ্যমে আমাদের জন্যে তার পছন্দনীয় জীবন যাপনের পথ ইসলাম পাঠিয়েছেন, সে ইসলামকে আমরা দু’টি মাধ্যমে জানতে পারিঃ
একঃ নবীর প্রতি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব আল কুরআন এর মাধ্যমে। দুইঃ নবীর বাণী, কাজ ও অনুমোদনসমূহের মাধ্যমে। অর্থাৎ নবীর হাদীসের মাধ্যমে।
এখানে আরেকটি কথা বলে নিই। কথাটা হলো, আমাদের প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা, কাজ ও অনমোদনের মাধ্যমে অর্থাৎ হাদীসের মাধ্যমে আমাদেরকে ইসলাম পালন করার যেসব নিয়ম কানুন, বিধি বিধান, আচার আচরণ ও রীতিপদ্ধতি জানিয়ে ও শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, তার নাম হলো, সুন্নতে রসূল বা রসূলের সুন্নাহ।
এখন এ আলোচনা থেকে আমাদের কাছে একটি কথা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেলো। তাহলো, যারা আল্লাহর পছন্দনীয় জীবন যাপনের পথ ইসলামকে জানতে চায় এবং ইসলাম অনুযায়ী জীবন যাপন করতে চায়, তাদেরকে অবশ্যি :
১. আল্লাহর কিতাব আল কুরআন পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং তা মেনে চলতে হবে।
২. নবীর হাদীস ও সুন্নাহকে পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী জীবন যাপন করত হবে।
তাহলে হাদীস কেন পড়বো? এ প্রশ্নটির জবাব এখন সুন্দরভাবে আমাদের জানা হয়ে গেলো!

হাদীস পড়ি জীবন গড়ি পর্ব ২

Permission taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

জামাত ছাড়লে শয়তান ঘেঁষে

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন :
কোনো গ্রামে বা এলাকায় যদি তিনজন মুসলমানও থাকে, আর তার যদি নামাযের জামাত কায়েম না করে, তবে শয়তান তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং জামাতে নামায় আদায় করা তোমাদের জন্যে অবশ্য কর্তব্য। কারণ, পাল ত্যাগ করা ভেড়াকে বাঘে খাইয়া ফেলে। (আবু দাউদ : আবু দারদা রাঃ)
ব্যাখ্যাঃ হাদীসের উদাহরণটা খুব চমৎকার। কোনো ভেড়া পাল ত্যাগ করে যদি একা একা বিচ্ছিন্নভাবে চরতে যায়, তখন তাকে যেমন বাঘে খেয়ে ফেলা সহজ, তেমনি জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া লোককে ধোকা দেয়া শয়তানের পক্ষে খুবই সহজ। অর্থাৎ মুসলমান দলবদ্ধ থাকলে তাদের কাছে শয়তান ঘেষতে ভয় পায়।

নামায পড়ো রীতিমতো

কোন মুসলমান নামায ত্যাগ করতে পারেনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।” (তিরমিযী)
ব্যাখ্যাঃ অন্য হাদীসে প্রিয় নবী বলেছেন, নামায ত্যাগ করলে মুসলমান আর কাফিরের মধ্যে পার্থক্য থাকেনা। সুতরাং মুসলমান কোনো অবস্থাতেই এক ওয়াক্ত নামাযও ত্যাগ করবেনা। হাতে যতো কাজই থাকুক না কেন, যতো অসুবিধাই থাকুক না কেন, সময় মতো নামায পড়ে নিতে হবে। কারণ, নামায পড়া আল্লাহর হুকুম।

নামায পড়লে ক্ষমা পাবে

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সুফল সম্পর্কে বলেছেনঃ
“আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি এই নামায গুলো আদায় করার জন্যে সুন্দরভাবে ওযু করে, প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায সময়মতো পড়ে, ঠিক ঠিক মতো রুকু সিজদা করে আর আল্লাহর ভয়ে বিনীতভাবে নামায আদায় করে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব।” (আবু দাউদ)

শিক্ষককে শ্রদ্ধা করো

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমরা জ্ঞান শিক্ষা করো এবং শিক্ষকদের প্রতি বিনয়ী ও শ্রদ্ধাশীল হও।” (তিবরানী : আবু হুরাইরা)

সমানে সমান

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে চলে, আল্লাহর হুকুম পালন করে, সে তার প্রতিটি নেক কাজের জন্যেই আল্লাহর কাছে পুরস্কার পাবে। কিন্তু যে অন্যদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকে, আল্লাহর পথে চলতে বলে এবং দীনের শিক্ষা দান করে, সে কী পাবে?

প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে, সে ভালো কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য (পুরস্কার পাবে)।” (তারগীব ও তারহীবঃ আবু হুরাইরা রাঃ)
ব্যাখ্যাঃ যে ব্যক্তি মানুষকে সৎ ও কল্যাণের কাজে উদ্বুদ্ধ করে, পরকালে সে বিরাট লাভবান হবে। কারণ সে নিজের ভালো কাজরে পুরস্কার তো পাবেই, আবার সেই সাথে অন্যদেরকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার পুরস্কারও পাবে। তার পুরস্কার হবে ডাবল।

কুরআন শিখো কুরআন শিখাও

আমরা তো জানি গোটা বিশ্ব জগত সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। আমাদের এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের তিনিই সৃষ্টি করছেন। তিনিই সমস্ত জ্ঞানের উৎস। আমরা কিভাবে জীবন যাপন করলে দুনিয়ায় শান্তি পাবো এবং পরকালে মুক্তি পাবো, জান্নাত পাবো, তা কেবল তিনিই জানেন। তিনি দয়া করে কুরআনের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন সঠিক জীবন যাপন করার পথ। তাই কুরআনকে জানা, বুঝা এবং মানা আমাদের সবচাইতে বড় কর্তব্য। এ কর্তব্য যারা পালন করে তাদের চাইতে উত্তম মানুষ আর হয় না।
প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমাদের মাঝে সবচেয়ে ভালো মানুষ সে, যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে শিখায়। (বুখারী : উসমান রাঃ)

এসো কুরআন পথে এসো আলোর পথে
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“এই কুরআন আল্লাহর রশি, অনাবিল আলো, নিরাময়কারী ও উপকারী বন্ধু। যে তাকে শক্ত করে ধরবে তাকে সে রক্ষা করবে। যে তাকে মেনে চলবে সে তাকে মুক্তি দেবে। (মুসতাদিরকে হাকিম : ইবনে মাসউদ)

জ্ঞানের পথে পা ফেলো

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি জ্ঞান লাভের জন্য কোনো পথ চলে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্যে বেহেশতের পথ সহজ করে দেন। (মুসলিম : আবু হুরাইরা রাঃ)
ব্যখ্যা : হাদীসটি থেকে জানা গেলো, জ্ঞান লাভের কাজে বিরাট ফায়দা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যারা পড়ালেখা জানে না, তারা কিভাবে দীন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবে?
হ্যা, যারা পড়ালেখা জানে, তাদের জন্যে জ্ঞানার্জন করা তো খুবই সহজ। আর যারা পড়ালেখা না শিখেই বড় হয়েছে, তারাও জ্ঞানার্জন করতে পারে।
নবীর সাথীরা সবাই পড়ালেখা জানতেননা। এমনকি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও পড়ালেখা জানতেননা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহীর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আর তার সাহাবীরা তার থেকে শুনে শুনে জ্ঞানার্জন করেছেন। পড়েও জ্ঞানার্জন করা যায়। শুনেও জ্ঞানার্জন করা যায়। সাহাবীগণ শুনেই জ্ঞানার্জন করেছেন।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“(দীনের) জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে ফরজ”।
সাহাবীগন শুনে শুনেই এ ফরয আদায় করেছেন। বর্তমানেও যারা পড়ালেখা জানেননা, তাদেরকে শুনে শুনেই দীন ইসলামের জ্ঞানার্জন করতে হবে। যারা দীন সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান রাখেন, তাদের থেকেই দীন সম্পর্কে শুনতে হবে।
আরেকটি হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে জ্ঞান লাভের জন্যে চেষ্টা করে, তার এ কাজের দ্বারা তার অতীতের অপরাধসমূহ মাফ হয়ে যায়”।
সুতরাং এতোদিন জ্ঞানার্জনের কথা চিন্তা না করে থাকলেও এখন থেকে শিশু কিশোর, শিক্ষিত অশিক্ষিত, পুরুষ নারী সকলকেই দীন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানলাভের চেষ্টা করা একান্ত দরকার। যারা আমল করার নিয়তে দীন ইসলাম সম্পর্কে ইলম হাসিল করার চেষ্টা করবে, আল্লাহ তায়ালা এই নেক নিয়তের কারণে তাদের অতীত অবহেলার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।

পরকালের জন্যে কাজ করাই বুদ্ধিমানের কাজ

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
আসল বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা করলো এবং মরণের পরের জন্য আমল করলো। আর বোকা দুর্বল সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে কামনা বাসনার অনুসারী করে দিয়েছে, অথচ আল্লাহ তাকে বেহেশত নিয়ে যাবে বলে মিথ্যা আশা করে বসে আছে। (তিরমিযী : শাদ্দাদ ইবন আউস রাঃ)

প্রকৃত মুমিন

সত্যিকার ঈমানদান কিভাবে হওয়া যায়, হাদীসে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কথাও জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন :
ঐ ব্যক্তির ঈমানদের স্বাধ পেয়েছে (অর্থাৎ সত্যিকার ঈমানদার হয়েছে), যে ব্যক্তি সন্তুষ্টির সাথে আল্লাহকে রব মেনে নিয়েছে। ইসলামকে দীন মেনে নিয়েছে। আর মুহাম্মদকে রসূল মেনে নিয়েছে। (মুসলিমঃ আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব।)
ব্যাখ্যাঃ হাদীসটিতে বলা হয়েছে, প্রকৃত মুমিন হতে হলে মনের সন্তুষ্টির সাথে তিনটি কথা স্বীকার করতে হবে। সেগুলো হলোঃ
১. আল্লাহকে রব হিসেবে স্বীকার করতে হবে।
২. ইসলামকে দ্বীন বা জীবন চলার পথ হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং
৩. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রসুল মেনে নিতে হবে।

ইচ্ছা বাসনার দীনের অধীন করো

হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
তোমাদের চিন্তা ভাবনা, কামনা বাসনা ও মতামত আমার নিয়ে আসা দীন ও শরীয়ত অনুযায়ী না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না। (মিশকাতঃ আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ)
ব্যাখ্যাঃ হাদীসটির বক্তব্য হলো, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ে আসা দীন ইসলাম অনুযায়ী নিজের চিন্তা ও জীবনকে গঠন করলেই প্রকৃত মুমিন হওয়া যাবে। তবে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন না করলে ইসলাম অনুযায়ী চিন্তা ও জীবন গঠন করা যায়না। কারণ কোনো জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে, সে জিনিসের আকাংখা করা এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবন গড়া কেমন করে সম্ভব?

মৃত্যুর আগে জীবনকে কাজে লাগাও

নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
পাঁচটি খারাপ সময় আসার আগে পাঁচটি ভালো সময়কে কাজে লাগাও :
১. বুড়ো হবার আগে যৌবনের শক্তিকে,
২. অসুখ হবার আগে সুস্থ থাকার সময়কে,
৩. অভাব অনটন আসার আগে সচ্ছলতাকে,
৪. ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগে অবসর সময়কে এবং
৫. মরণ আসার আগে জীবিত থাকার সময়কে। (তিরমিযী : আমর ইবনে মাইমুন রাঃ)
ব্যাখ্যাঃ অনেক মানুষ কেবল এই দুনিয়ার অর্থ সম্পদ এবং মান মর্যাদা লাভ করবার ও ভোগ করবার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। পরকালের মুক্তির জন্য কি আমল করলো আর মরণের পরে কি অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে, সে বিষয়ে কোনো চিন্তা ভাবনা করেনা। আসলে দুনিয়ার জীবনটা একটা সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরকালের মুক্তির ব্যবস্থা করা সকলেরই কর্তব্য।

দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে পরকালে প্রশ্ন করা হবে

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
১. কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্ন জিজ্ঞিসা করার আগে বনী আদমের পা এক কদমও নড়তে পারবেনা। সেগুলো হলোঃ
১. সে নিজের জীবনটা কোন্‌ পথে কাটিয়েছে?
২. যৌবনের শক্তি কোন্‌ কাজে লাগিয়েছে?
৩. ধন সম্পদ কোন পথে উপার্জন করেছে?
৪. কোন পথে ধন সম্পদ ব্যয় করেছে?
৫.দীন ইসলাম সম্পর্কে যতোটুকু জানতো, সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে। {তিরমিযী : ইবনে মাসউদ রাঃ}
ব্যাখ্যা : এই হাদীসে আমাদের প্রিয় নবী আমাদেরকে একথাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমাদের জীবনের একটি মুহূর্তও অকারণে নষ্ট করা যাবেনা। অন্যায় পথে একটি পয়সাও খরচ করা যাবেনা। আল্লাহর মর্জির খেলাফ কাজে একটি পয়সাও খরচ করা যাবেনা। আর দীন ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চলতে হবে। কারণ, আল্লাহর কাছে একদিন এগুলোর হিসাব দিতে হবে। আমাদের প্রত্যেককেই মরতে হবে এবং আল্লাহর কাছে হাযির হতে হবে। তাই সেদিনকার মুক্তির ব্যবস্থা পৃথিবী থেকেই করে যেতে হবে।

হাদীস পড়ি জীবন গড়ি পর্ব ৩

Permission taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

স্বজন পোষণ দানের কাজ

সৎ পথে উপার্জন করে নিজের সংসার চালালে তাতেও আল্লাহ্‌ তায়ালা সদকার সওয়াব দেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমার উপার্জন থেকে যা তুমি নিজে খাও, তাতে তোমার জন্যে দানের সওয়াব রয়েছে। যা তোমার সন্তানের জন্যে ব্যয় করো তাও তোমার একটি দান। যা বিবির জন্যে ব্যয় করো, তাও দান। যা চাকর বাকরের জন্যে ব্যয় করো, তাও সদকা। (তারগীব ও তারহীব : মিকদাম বিন মাদীকরব রাঃ)

সৎ ব্যবসায়ী অতি মহান

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“সৎ সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী পরকালে নবী,সিদ্দীক ও শহীদদের সাথে থাকবে।” (তিরমিযী : আবু সায়ীদ খুদরী রাঃ)

ব্যাখ্যাঃ অনৈসলামী সমাজে সৎ পথে ব্যবসা করা যে খুব কঠিন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সত্যিকার মুসলমান ব্যবসায়ী কোনো অবস্থাতেই ব্যবসায়ে অসততা অবলম্বন করতে পারেনা। সততার সাথে ব্যবসা করার জন্যে তাকে সংগ্রাম করে যেতে হবে। তবেই হাদীসে বর্ণিত এই মর্যাদা লাভ করা যাবে।

পরের জমির আইল ঠেলোনা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমিও দখল করে নেয়, কিয়ামতের দিন তার গলায় সাত স্তবক বেড়ী পরানো হবে। (বুখারীঃ সায়ীদ ইবনে যায়েদ রাঃ)

ফল ফসল সদকা হবে

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“কোনো মুসলমান যদি ফসলের ক্ষেত করে, কিংবা ফলের গাছ লাগায় আর তা থেকে মানুষ বা পশু পাখি যে আহার করে, সেটাকে ঐ মুসলমান ব্যক্তির সদকা হিসেবে আল্লাহ্‌ লিখে রাখেন। (মুসলিম)

মুসলমান মুসলমানের ভাই

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“মুসলমান মুসলামানের ভাই। এক মুসলমান ভাই তার আরেক মুসলমান ভাইয়ের প্রতি যুলুম করতে পারেনা। তাকে ঘৃনা করতে পারেনা। অপমান করতে পারেনা। যে ব্যক্তি মুসলমান ভাইকে ধৃণা করলো, বা ছোট মনে করলো, সে অত্যন্তখারাপ লোক। যে কোনো মুসলমানের রক্ত, অর্থ সম্পদ এবং মান ইজ্জত সকল মুসলমানের নিকট সম্মানিত।” (মুসলিম : আবু হুরাইরা রাঃ)

সাহায্য করো দীনি ভাইকে

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়াত দিয়ে গেছেনঃ
“তোমার মুসলমান ভাইকে সাহায্য করো, সে যালিম হোক কিংবা মযলুম। একথা শুনে একজন লোক জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রসূলুল্লাহ মযলুমকে তো সাহায্য করতে পারবো, কিন্তু যালিমকে কিভাবে সাহায্য করবো? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যুলুম করা থেকে তাকে বিরত রাখাটাই তাকে সাহায্য করা।”
ব্যাখ্যাঃ যে জুলুম করে, এই যুলম করাটা তার ক্ষতি বা গুনাহ। আর যুলুম না করাটা হলো নেক কাজ। যুলুম করা থেকে তাকে বিরত রাখার মাধ্যমে গুনাহ থেকে তাকে বাচানো হলো এবং নেক কাজে সাহায্য করা হলো। এটাই হচ্ছে যালিমকে সাহায্য করার অর্থ।

দোয়া করো পিতা মাতার জন্যে

প্রিয় নবীর সাথে আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“মানুষ যখন মরে যায়, তখন তার আমলও ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল (আমলনামায়) যোগ হতে থাকেঃ ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. কল্যাণময় শিক্ষা, ৩. এমন সৎ সন্তান যে মৃত পিতা মাতার জন্যে দোয়া করে।” (মুসলিম : আবু হুরাইরা)
ব্যাখ্যাঃ “সদকায়ে জারিয়”’ মানে এমন জনসেবার কাজ, যা দ্বারা বছরের পর বছর মানুষ উপকৃত হয়। তাদ্বারা যতোদিন মানুষ উপকৃত হবে, ততোদিন এই সেবাদানকারীর আমল নামায় নেক আমল যোগ হবে।
“কল্যাণময় শিক্ষা” মানে এমন জ্ঞান ও শিক্ষা মানুষকে দিয়ে যাওয়া এবং মানুষের মধ্যে প্রচার করে যাওয়া, যার ফলে মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম আল্লাহর পথে চলতে থাকে। এ শিক্ষাদান থেকেও মৃত ব্যক্তির আমল নামায় নেক আমল যোগ হতে থাকবে।
মৃত পিতা মাতার জন্যে সৎ সন্তানের দোয়াও আল্লাহ্‌ কবুল করেন। সৎ সন্তানের দোয়ায় মৃত পিতা মাতার নেক আমল বৃদ্ধি পায়।

বাবা মাকে কষ্ট দিওনা

আবী বকরা নুফাঈ বিন হারিছ (রাঃ) বলেনঃ একদিন রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ
“আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ্‌ কি তা বলবো? কথাটি তিনি তিনবার বললেন। আমরা বললামঃ অবশ্যি, হে আল্লাহর রসূল। তিনি বললেনঃ ১. আল্লাহর সাথে শরীক করা ২. বাবা মাকে কষ্ট দেয়া। এ যাবত তিনি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: ৩. সাবধান মিথ্যা কথা বলা এবং ৪. মিথ্যা সাক্ষি দেয়া।” (বুখারী ও মুসলীম)
পিতা মাতাকে কষ্ট দেয়া এতো বড় গুনাহ বলেই তো প্রিয় নবী রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের সাবধান করে গেছেন। একবার এক ব্যক্তি এসে তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ
“ওগো আল্লাহর রসূল! সন্তানের উপর পিতা মাতার অধিকার কি? তিনি বললেনঃ তারা তোমার জান্নাত, আবার তারাই তোমার জাহান্নাম। (ইবনে মাজাহ : আবু উমামা রাঃ)
ব্যাখ্যাঃ এ দুটি হাদীস থেকে জানা গেলো, পিতা মাতাকে কষ্ট দেয়া জাহান্নামে যাওয়ার কাজ। অপরদিকে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করা জান্নাতে যাওয়ার কাজ। অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তি তার পিতা মাতার সাথে কেমন ব্যবহার করেছে, কিয়ামতের দিন এ বিষয়টির হিসাব নেয়া হবে। যেসব কারণে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নামে যাবে তন্মধ্যে এটিও একটি বিবেচনার বিষয় হবে।

পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করো

রসূলুল্লাহর বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন :
“আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলামঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বললেন সময়মতো নামায পড়া। আমি বললাম তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করা। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” (বুখারী ও মুসলিম)
ব্যাখ্যাঃ হাদীসটি থেকে আমরা জানতে পারলাম, মহান আল্লাহর তিনটি অতি প্রিয় কাজের মধ্যে একটি হলো, বাবা মার সাথে সদ্ব্যবহার বা উত্তম আচরণ করা। আল্লাহ তায়ালা কুরাআন মজীদে কিন্তু পিতা মাতার সাথে উত্তম আচরণ এবং তাদের সেবা করার হুকুমই দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ
“আমি মানুষকে তার পিতা মাতার সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম দিয়েছি।” (আনকাবূত : ৮)
কুরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেনঃ
“তোমার প্রভু হুকুম দিচ্ছেনঃ তোমরা ছাড়া আর কারো দাসত্ব করবে না। বাবা মার সাথে ভাল ব্যবহার করবে। তাদের কোনো একজন কিংবা দুজনই যদি বৃদ্ধ অবস্থায় তোমার কাছে থাকে, তবে (তাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে) উহ্‌ পর্যন্ত বলবেনা। তাদেরকে ভৎর্সনা করবেনা। তাদের সাথে কথা বলবে সম্মানের সাথে। তাদের সাথে বিনয় ও নম্রতার আচরণ করবে। আর তাদের জন্যে এভাবে দোয়া করবেঃ
প্রভু! এদের দুজনকেই দয়া করো, যেমন করে স্নেহ মমতার সাথে তারা শিশুকাল থেকে আমাকে প্রতিপালন করেছেন।” (বনী ইসরাইলঃ ২৩ -২৪)
সূরা লুকমানে আল্লাহ্‌ পাক পিতা মাতা সম্পর্কে একথাটিও বলে দিয়েছেন যে, পিতা মাতা যদি মুশরিকও হয়, তবু এই পৃথিবীর জীবনে তাদের সাথে ভাল ব্যবহারই করবে। তবে তারা যদি তোমাকে শিরক কিংবা পাপের দিকে ডাকে, সে ডাকে সাড়া দেবেনা।

রমযান মাসের রোযা রাখো

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মাসের রোযা সম্পর্কে বলেছেন :
“আল্লাহ্‌ এই মাসে (রমযান মাসে) রোযা রাখা ফরয করে দিয়েছেন।” (মিশকাত)

রোযার পুরস্কার আল্লাহ্‌ নিজে

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেনঃ
“বান্দা আমার জন্যে রোযা রাখে, সুতরাং আমি নিজেই রোযাদারের পুরস্কার।” (মিশকাত)
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ নিজেই যদি রোযার পুরস্কার হন, তবে এর চাইতে বড় পুরস্কার আর কিছু হতে পারে কি? আল্লাহ বড়ই মেহেরবান। যে আল্লাহকে পায়, তার আর কি প্রয়োজন?

রোযা রাখো মিথ্যা ছাড়ো

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
“যে ব্যাক্তি রোযা রেখেও মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা কাজকর্ম ছাড়তে পারলোনা, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (বুখারী)

যাকাত করো পরিশোধ

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে বলেছেনঃ
“আল্লাহ যাকাত ফরয করে দিয়েছেন। যাকাত ধণীদের থেকে আদায় করা হবে আর দরিদ্রের মধ্যে বন্টন করা হবে।” (বুখারী মুসলিম)
ব্যাখ্যাঃ এই হাদীসে যাকাত সম্পর্কে তিনটি কথা পাওয়া গেলোঃ
এক : যাকাত দেয়া ফরয।
দুই : যাকাত ধনীদের থেকে আদায় করতে হয়।
তিন : যাকাত গরীবদের মধ্যে বিতরন করতে হয়।

ফসলের যাকাত উশর

যাদের ফসলাদি উৎপন্ন হয়, তাদেরকে ফসলেরও যাকাত দিতে হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
“যে জমিতে বৃষ্টি, বর্ষার পানি এবং নদী নালার পানিতে বিনা সেচে ফসল জন্মে, কিংবা নদী বা খালের কাছে বলে সেচের প্রয়োজন হয়না, সেই জমিতে যে ফসল হয়, তার দশভাগের একভাগ যাকাত দিতে হবে। আর যেসব জমিত শেরমের মাধ্যমে সেচ করতে হয়, সেসব জমিতে যে ফসল হয়, তার বিশভাগের একভাগ যাকাত দিতে হবে। (বুখারী)

• উশর মানে এক দশমাংশ বা দশভাগের এক ভাগ।

নামায পড়ো জামাত গড়ো

জামাতে নামায পড়লে সওয়াব বেশী হয়। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
“একা একা নামায পড়ার চাইতে জামাতে নামায পড়ার মর্যাদা সাতাশ গুণ বেশী।” (মুসলিম : আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ)
মানে জামাতে নামায পড়া লোকেরা পরকালে তাদের জামাতে নামায পড়ার জন্যে সাতাশ গুণ বেশী পুরস্কার পাবে।

হাদীস পড়ি জীবন গড়ি পর্ব ৪

Permission taken from Source   http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/

মুনাফিককে চিনে নাও

প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

“যার মধ্যে এই চারটি স্বভাব থাকবে, সে পূরো মুনাফিক। আর যার মধ্যে এ চারটি কোনো একটি স্বভাব থাকবে, সে আংশিক মুনাফিক, যতোক্ষণ না সে এগুলো ত্যাগ করবে। স্বভাবগুলো হলোঃ

১. আমানত রাখা হলে সে খিয়ানত করে,
২. কথা বলার সময় মিথ্যা কথা বলে,
৩. ওয়াদা করলে তা খিলাফ করে এবং
৪. বিবাদকালে গালিগালাজ করে। (বুখারী মুসলিম : আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ)

জোট বাঁধো জামাত গড়ো

সমাজের অন্যায়কারীরা সব জোটবদ্ধ। এমতাবস্থায় ভালো লোকেরা একা একা কিভাবে তাদেরকে বাধা দেবে? আর তাদেরকে বাধা না দেয়ার ফলে তো আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিপদের কথা বলেছেন, তা আমাদের উপর চেটেই বসেছে। এমতাবস্থায় সত্যিকার মুসলমানদেরকে সংঘব্ধ হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে তাদেরকে দলবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় নবীও হাদীসে জামাতবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ

“আমি তোমাদের পাঁটটি কাজের নির্দেশ দিচ্ছিঃ সেগুলো হলোঃ তোমরা জামাতবদ্ধ থাকবে। নেতার কথা শুনবে। নেতার আনুগত্য করবে। হিজরত করবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। আর যে ব্যাক্তি জামাত থেকে এক বিঘতও বেরিয়ে যায়, সে পুনরায় জামাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত যেনো ইসলামের রশি নিজের গলদেশ থেকে খুলে ফেললো।” (মুসনাদে আহমদ : হারেছ আশআরী রাঃ)

“মানুষের সবচেয়ে ভালো আমল হলো, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং ইসলামী সমাজ গড়ার আন্দোলন।” (মিশকাত)

বাধা দাও অন্যায় কাজে

বর্তমানে আমাদের সমাজে অন্যায়ে ভরে গেছে। অল্প কিছু লোক ছাড়া সমাজের বড় কর্তা থেকে আরম্ভ করে ছোট কর্মচারী পর্যন্ত সকলেই অন্যায় কাজ কলে। এই সমাজে অন্যায় করা এবং অন্যায় পথে চলাই সহজ। অন্যায়কারীদের জন্যে সমাজে টিকে থাকাই কঠিন।

কিন্তু একথা জেনে রাখা দরকার, কোনো সমাজে সত্যিকার মুসলমান থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম করা কর্তব্য। মুসলমানরা যদি ইসলাম বিরোধী তাদের সংগ্রাম করা কর্তব্য। মুসলমানরা যদি ইসলাম বিরোধী কাজ না ঠেকায়, তবে তাদের ঈমান আছে বলেই ধরা যায়না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় ও ইসলাম বিরোধী কাজ হতে দেখে তবে সে যেনো শক্তি প্রয়োগ করে তা ঠেকায়। আর তার যদি সেই শক্তি না থাকে, তবে যেনো মুখে নিষেধ ও সমালোচনা করে। এটাও করার অবস্থা যদি না থাকে, তবে সে যেনো মনে মনে সে কাজকে ঘৃণা করে এবং তার পরবির্তন চায়। আর এই মনে মনে ঘৃণা করাটা একেবারে দুর্বল ঈমানের লক্ষণ।” (মুসলিম : আবু সায়ীদ খুদরী রাঃ)

আদেশ দাও সৎ কাজের

কোনো সমাজের ভালো লোকেরা যদি এক হয়ে সত্য ন্যায় ও সুকীর্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে আন্দোলন না করে, তবে দুনিয়াতেই তাদের উপর চরম যুলম, নির্যাতন চলবে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

“ তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের নির্দেশ দিবে। অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে। ভালো কাজে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এ কাজগুলো যদি না করো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সকলকে কঠিন শাস্তিতে নিমজ্জিত করবেন। অথবা তোমাদের মধ্যে যারা দুষ্ট লোক, তাদেরকে তোমাদের কর্তা ও শাসক বানিয়ে দেবেন। তখন তোমাদের ভালো লোকেরা এ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্যে দোয়া করবে। কিন্তু তখন আর আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করবেনা।” (মুসনাদে আহমদ : হুযাইফা রাঃ)

সুদের কাছে যেয়োনা

কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা সুদ সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছেন। সুদের সাথে জড়িত হওয়া কবীরা গুনাহ। নবীর সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন :

“যারা সুদ খায়, যারা সুদ দেয়, যারা সুদের সাক্ষী হয় এবং যারা সুদের আদান প্রদান লেখে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকলকে অভিশাপ দিয়েছেন।” (বুখারীঃ ইবনে মাসউদ রাঃ)

ঘুষ দিয়ো না ঘুষ নিয়োনা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“ ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ।” (বুখারী : ইবনে উমর রাঃ)

তিনি আরো বলেছেন : “ঘুষদাতা এবং ঘুষ দু’জনই জাহান্নামে থাকবে।”

ঋণ করো পরিশোধ

কেউ যদি ঋণ করার পর তা পরিশোধ না করে, কিংবা পরিশোধ করার সামর্থ না থাকলে ক্ষমা চেয়ে না নেয়, তবে সে যদি আল্লাহর পথে শহীদও হয়ে যায়, তবু এই ঋণ পরিশোধ না করার গুনাহ তার মাফ হবেনা।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয়, তার সকল গুনাহই মাফ করে দেয়া হবে। তবে দেনার ব্যাপারটা মাফ করা হবেনা।” (মুসলিম : আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ)

আমানত করোনা খিয়ানত

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে তোমার কাছে আমানত রেখেছে, তুমি তার আমানত ফিরিয়ে দাও। আর যে তোমার খিয়ানত করেছে তুমি তার খিয়ানত করোনা।” (তিরমিযী : আবু হুরাইরা রাঃ)

ঠকাবেনা ওয়ারিশকে

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি কোনো ওয়ারিশকে তার ওয়ারিশী থেকে বঞ্চিত করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে বেহেশতের ওয়ারিশী থেকে বঞ্চিত করবেন।” (ইবনে মাজাহ : আনাস রাঃ)

ধার করয দাও সবে

আমরা এক সমাজে বাস করি। নিজেদের প্রয়োজনে টাকা পয়সা ধার করয নিই এবং ধার করয দিই। আমাদের এক ঘরের মেয়েরা আরেক ঘর থেকে নুন, তেল, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদি ছোট খাটো ছোট খাট জিনিস ধার করয নেয়, দেয়। এইরূপ ধার করয দেয়ার মধ্যে কোনো সওয়াব আছে কি? হাঁ, অবশ্যি আছে।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ  “প্রত্যেকটা ধার করযাই একটি দান।”(তারগীব : ইবনে মাসউদ রাঃ)

তিনি আরো বলেছেনঃ  “কোনো মুসলমান তার মুসলমান ভাইকে একবার ধার দিলে, সে দুইবার দান করার সওয়াব পাবে। (ইবনে মাজাহ : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ)

হিংসা করো ত্যাগ

কোনো মুসলমানের অন্তরে হিংসা বিদ্বেষ থাকতে পারবেনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাদীসে এ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ

“তোমরা কিছুতেই পরস্পরেকে হিংসা করবেনা। কারণ, হিংসা মানুষের নেক আমলকে ঠিক সেইভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন করে আগুন কাঠখড়ি খেয়ে ফেলে। (আবু দাউদ : আবু হুরাইরা রাঃ)

দুঃখীজনে দয়া করো

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
তোমাদের কেউ যদি আল্লাহর কাছে কিয়ামতের কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চায়, তবে সে যেনো অভাবী দেনাদারকে সময় দেয়, কিংবা নিজের পাওনা মাফ করে দেয়। ” (মুললিম : কাতাদা রাঃ)

ব্যাখ্যাঃ ঋণগ্রস্থ লোক দুই প্রকার হয়ে থাকে। এক প্রকার ঋণগ্রস্থ লোক সত্যি অভাবী। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করতে পারেনা। এদেরকে সময় দেয়া উচিত, কিংবা এদের ঋণ মাফ করে দেয়া উচিত। আরেক প্রকার ঋণগ্রস্থ লোক তারা, যারা ঋণ পরিশোধের সামর্থ থাকা সত্ত্বেও পরিশোধ করেনা। এরা খুবই খারাপ লোক। সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ না করাটা কিন্তু খুবই শক্ত গুনাহ।

শ্রমের মর্যাদা জানি কি?

সততার সাথে গায়ে খেটে যারা উপার্জন করে, তারা আল্লাহ্‌ তায়ালার ভালবাসা পায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“আল্লাহ্‌ তায়ালা পরিশ্রম করে উপার্জনকারী মুমিনকে ভালবাসেন।” (তিবরানী)

অন্য একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“সার্বত্তোম রোজগার হলো, আল্লাহর পছন্দনীয় তরীকায় ব্যবসা করা এবং গায়ে খেটে উপার্জন করা।” (মুসনাদে আহমদ)

« Older entries