Permission taken from Source http://prothom-aloblog.com/users/base/lovelu1977/
মুনাফিককে চিনে নাও
প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
“যার মধ্যে এই চারটি স্বভাব থাকবে, সে পূরো মুনাফিক। আর যার মধ্যে এ চারটি কোনো একটি স্বভাব থাকবে, সে আংশিক মুনাফিক, যতোক্ষণ না সে এগুলো ত্যাগ করবে। স্বভাবগুলো হলোঃ
১. আমানত রাখা হলে সে খিয়ানত করে,
২. কথা বলার সময় মিথ্যা কথা বলে,
৩. ওয়াদা করলে তা খিলাফ করে এবং
৪. বিবাদকালে গালিগালাজ করে। (বুখারী মুসলিম : আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ)
জোট বাঁধো জামাত গড়ো
সমাজের অন্যায়কারীরা সব জোটবদ্ধ। এমতাবস্থায় ভালো লোকেরা একা একা কিভাবে তাদেরকে বাধা দেবে? আর তাদেরকে বাধা না দেয়ার ফলে তো আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিপদের কথা বলেছেন, তা আমাদের উপর চেটেই বসেছে। এমতাবস্থায় সত্যিকার মুসলমানদেরকে সংঘব্ধ হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে তাদেরকে দলবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় নবীও হাদীসে জামাতবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ
“আমি তোমাদের পাঁটটি কাজের নির্দেশ দিচ্ছিঃ সেগুলো হলোঃ তোমরা জামাতবদ্ধ থাকবে। নেতার কথা শুনবে। নেতার আনুগত্য করবে। হিজরত করবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। আর যে ব্যাক্তি জামাত থেকে এক বিঘতও বেরিয়ে যায়, সে পুনরায় জামাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত যেনো ইসলামের রশি নিজের গলদেশ থেকে খুলে ফেললো।” (মুসনাদে আহমদ : হারেছ আশআরী রাঃ)
“মানুষের সবচেয়ে ভালো আমল হলো, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং ইসলামী সমাজ গড়ার আন্দোলন।” (মিশকাত)
বাধা দাও অন্যায় কাজে
বর্তমানে আমাদের সমাজে অন্যায়ে ভরে গেছে। অল্প কিছু লোক ছাড়া সমাজের বড় কর্তা থেকে আরম্ভ করে ছোট কর্মচারী পর্যন্ত সকলেই অন্যায় কাজ কলে। এই সমাজে অন্যায় করা এবং অন্যায় পথে চলাই সহজ। অন্যায়কারীদের জন্যে সমাজে টিকে থাকাই কঠিন।
কিন্তু একথা জেনে রাখা দরকার, কোনো সমাজে সত্যিকার মুসলমান থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম করা কর্তব্য। মুসলমানরা যদি ইসলাম বিরোধী তাদের সংগ্রাম করা কর্তব্য। মুসলমানরা যদি ইসলাম বিরোধী কাজ না ঠেকায়, তবে তাদের ঈমান আছে বলেই ধরা যায়না।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় ও ইসলাম বিরোধী কাজ হতে দেখে তবে সে যেনো শক্তি প্রয়োগ করে তা ঠেকায়। আর তার যদি সেই শক্তি না থাকে, তবে যেনো মুখে নিষেধ ও সমালোচনা করে। এটাও করার অবস্থা যদি না থাকে, তবে সে যেনো মনে মনে সে কাজকে ঘৃণা করে এবং তার পরবির্তন চায়। আর এই মনে মনে ঘৃণা করাটা একেবারে দুর্বল ঈমানের লক্ষণ।” (মুসলিম : আবু সায়ীদ খুদরী রাঃ)
আদেশ দাও সৎ কাজের
কোনো সমাজের ভালো লোকেরা যদি এক হয়ে সত্য ন্যায় ও সুকীর্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে আন্দোলন না করে, তবে দুনিয়াতেই তাদের উপর চরম যুলম, নির্যাতন চলবে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
“ তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের নির্দেশ দিবে। অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে। ভালো কাজে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এ কাজগুলো যদি না করো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সকলকে কঠিন শাস্তিতে নিমজ্জিত করবেন। অথবা তোমাদের মধ্যে যারা দুষ্ট লোক, তাদেরকে তোমাদের কর্তা ও শাসক বানিয়ে দেবেন। তখন তোমাদের ভালো লোকেরা এ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্যে দোয়া করবে। কিন্তু তখন আর আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করবেনা।” (মুসনাদে আহমদ : হুযাইফা রাঃ)
সুদের কাছে যেয়োনা
কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা সুদ সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছেন। সুদের সাথে জড়িত হওয়া কবীরা গুনাহ। নবীর সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন :
“যারা সুদ খায়, যারা সুদ দেয়, যারা সুদের সাক্ষী হয় এবং যারা সুদের আদান প্রদান লেখে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকলকে অভিশাপ দিয়েছেন।” (বুখারীঃ ইবনে মাসউদ রাঃ)
ঘুষ দিয়ো না ঘুষ নিয়োনা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“ ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ।” (বুখারী : ইবনে উমর রাঃ)
তিনি আরো বলেছেন : “ঘুষদাতা এবং ঘুষ দু’জনই জাহান্নামে থাকবে।”
ঋণ করো পরিশোধ
কেউ যদি ঋণ করার পর তা পরিশোধ না করে, কিংবা পরিশোধ করার সামর্থ না থাকলে ক্ষমা চেয়ে না নেয়, তবে সে যদি আল্লাহর পথে শহীদও হয়ে যায়, তবু এই ঋণ পরিশোধ না করার গুনাহ তার মাফ হবেনা।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয়, তার সকল গুনাহই মাফ করে দেয়া হবে। তবে দেনার ব্যাপারটা মাফ করা হবেনা।” (মুসলিম : আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ)
আমানত করোনা খিয়ানত
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে তোমার কাছে আমানত রেখেছে, তুমি তার আমানত ফিরিয়ে দাও। আর যে তোমার খিয়ানত করেছে তুমি তার খিয়ানত করোনা।” (তিরমিযী : আবু হুরাইরা রাঃ)
ঠকাবেনা ওয়ারিশকে
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি কোনো ওয়ারিশকে তার ওয়ারিশী থেকে বঞ্চিত করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালা তাকে বেহেশতের ওয়ারিশী থেকে বঞ্চিত করবেন।” (ইবনে মাজাহ : আনাস রাঃ)
ধার করয দাও সবে
আমরা এক সমাজে বাস করি। নিজেদের প্রয়োজনে টাকা পয়সা ধার করয নিই এবং ধার করয দিই। আমাদের এক ঘরের মেয়েরা আরেক ঘর থেকে নুন, তেল, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদি ছোট খাটো ছোট খাট জিনিস ধার করয নেয়, দেয়। এইরূপ ধার করয দেয়ার মধ্যে কোনো সওয়াব আছে কি? হাঁ, অবশ্যি আছে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রত্যেকটা ধার করযাই একটি দান।”(তারগীব : ইবনে মাসউদ রাঃ)
তিনি আরো বলেছেনঃ “কোনো মুসলমান তার মুসলমান ভাইকে একবার ধার দিলে, সে দুইবার দান করার সওয়াব পাবে। (ইবনে মাজাহ : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ)
হিংসা করো ত্যাগ
কোনো মুসলমানের অন্তরে হিংসা বিদ্বেষ থাকতে পারবেনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাদীসে এ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ
“তোমরা কিছুতেই পরস্পরেকে হিংসা করবেনা। কারণ, হিংসা মানুষের নেক আমলকে ঠিক সেইভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন করে আগুন কাঠখড়ি খেয়ে ফেলে। (আবু দাউদ : আবু হুরাইরা রাঃ)
দুঃখীজনে দয়া করো
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
তোমাদের কেউ যদি আল্লাহর কাছে কিয়ামতের কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চায়, তবে সে যেনো অভাবী দেনাদারকে সময় দেয়, কিংবা নিজের পাওনা মাফ করে দেয়। ” (মুললিম : কাতাদা রাঃ)
ব্যাখ্যাঃ ঋণগ্রস্থ লোক দুই প্রকার হয়ে থাকে। এক প্রকার ঋণগ্রস্থ লোক সত্যি অভাবী। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করতে পারেনা। এদেরকে সময় দেয়া উচিত, কিংবা এদের ঋণ মাফ করে দেয়া উচিত। আরেক প্রকার ঋণগ্রস্থ লোক তারা, যারা ঋণ পরিশোধের সামর্থ থাকা সত্ত্বেও পরিশোধ করেনা। এরা খুবই খারাপ লোক। সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ না করাটা কিন্তু খুবই শক্ত গুনাহ।
শ্রমের মর্যাদা জানি কি?
সততার সাথে গায়ে খেটে যারা উপার্জন করে, তারা আল্লাহ্ তায়ালার ভালবাসা পায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“আল্লাহ্ তায়ালা পরিশ্রম করে উপার্জনকারী মুমিনকে ভালবাসেন।” (তিবরানী)
অন্য একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“সার্বত্তোম রোজগার হলো, আল্লাহর পছন্দনীয় তরীকায় ব্যবসা করা এবং গায়ে খেটে উপার্জন করা।” (মুসনাদে আহমদ)